পঙ্গু। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বাক্বির (রহ.) এই সত্যটি খুব সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন—
“لَا دِينَ لِمَنْ لَا وَرَعَ لَهُ، وَلَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ”
“যার ভেতর ‘ওয়ারা’ (পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার সতর্কতা) নেই তার কোনো ধর্ম নেই; আর যার মাঝে আমানতদারী নেই তার কোনো ঈমান নেই।”
সুতরাং ধর্মের সারবস্তু নিছক আনুষ্ঠানিকতার মাঝে নয়, বরং সেই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মাঝে যা মানুষকে আরও বেশি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও পরিশুদ্ধ করে তোলে। আনুষ্ঠানিকতাগুলো কেবল মাধ্যম মাত্র, আর আসল উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি বা ‘তাযকিয়াতুন নাফস’।
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا “সে-ই সফলকাম হলো, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করল।” [সূরাহ আশ-শামস: ৯]
৪. ধর্ম: বুদ্ধি ও আত্মার সেতুবন্ধন
আমরা যখন পবিত্র কুরআন এবং আহলে বাইতের (আ.) বাণীসমূহ পাঠ করি, তখন দেখি সেখানে ঈমান ও বিবেকের মাঝে কোনো বিভাজন রেখা টানা হয়নি। তাঁদের কাছে ‘আকল’ বা বিবেক ধর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং তা ধর্মের অভ্যন্তরীণ জ্যোতি। ইমাম কাযিম (রহ.) বলেন—
“إِنَّ لِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حُجَّتَيْنِ: حُجَّةً ظَاهِرَةً، وَحُجَّةً بَاطِنَةً؛ فَأَمَّا الظَّاهِرَةُ فَالرُّسُلُ وَالْأَنْبِيَاءُ وَالْأَئِمَّةُ، وَأَمَّا الْبَاطِنَةُ فَالْعُقُولُ”
“নিশ্চয়ই মানুষের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে দুটি হুজ্জাত (প্রমাণ) রয়েছে: একটি প্রকাশ্য হুজ্জাত, যা হলো রাসূল, নবী ও ইমামগণ; আর অন্যটি অপ্রকাশ্য বা অভ্যন্তরীণ হুজ্জাত, যা হলো মানুষের বিবেক (আকল)।”
এই দর্শন অনুযায়ী, ধর্ম হলো ওহীর আলো এবং বিবেকের আলোর এক দ্বিমুখী সমন্বয়। যদি বিবেক অনুপস্থিত থাকে, তবে ঈমান পরিণত হয় এক জড় ও অন্ধ অনুকরণের নামান্তরে; আবার ওহী যদি না থাকে, তবে বিবেক তার অহংকারে পথ হারিয়ে ফেলে। তাই প্রকৃত ধর্ম হলো তা-ই, যা বিবেকের সচেতনতা আর হৃদয়ের স্বচ্ছতাকে একই সুতোয় গেঁথে দেয়। ইতিহাসের অধিকাংশ ধর্মীয় বিচ্যুতির মূলে রয়েছে এই দুইয়ের যেকোনো একটির অভাব। যে সকল সুফী বা আধ্যাত্মিক সাধক বিবেককে বর্জন করেছেন, তারা কল্পনার সাগরে ডুবে গেছেন; আর যে সকল ফকীহ্ বা আইনবিদ আত্মাকে বর্জন করেছেন, তারা শুষ্কতায় নিমজ্জিত হয়েছেন। কিন্তু আহলে বাইত (আ.) জ্ঞান ও ইবাদত এবং চিন্তা ও আচরণের মাঝে এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন; তাঁরাই ছিলেন সচেতন ধর্মীয় জীবনের এক পূর্ণাঙ্গ আদর্শ।
৫. ধর্ম: করুণার আধার, ভীতির আবর্ত নয়
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা নিজেকে ‘বিচারক’ কিংবা ‘পরাক্রমশালী’ হিসেবে পরিচয়
