পবিত্রতার বিভ্রম

« <
/ 19
> »

বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শিকল নয়, বরং ভেতর থেকে আসা এক আর্তি। এটি কোনো নিছক কর্তৃত্ব নয়, বরং মানুষের ভেতরে থাকা সেই আদি জ্যোতি বা আলোর এক জীবন্ত স্মৃতি।

 

২. ধর্ম পূর্ণতার প্রকল্প, অন্ধ আনুগত্যের নয়

আল্লাহ যদি মানুষের কাছে কেবল আজ্ঞাবহতাই চাইতেন, তবে তিনি মানুষকে এমন এক যন্ত্র হিসেবে সৃষ্টি করতে পারতেন যা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কেবল হুকুম পালন করত। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছেন ঈমান বা বিশ্বাস যেন হয় একটি স্বাধীন নির্বাচন—যা সচেতনতা ও ভালোবাসা থেকে উৎসারিত হবে। এখান থেকেই বোঝা যায় যে, ধর্মের সারমর্ম কেবল আক্ষরিক অনুকরণ নয়, বরং মানবিক পূর্ণতা অর্জন করা।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (রহ.) বলেন—

“إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يَفْرِضِ الْإِيمَانَ عَلَى عِبَادِهِ إِلَّا بَعْدَ أَنْ عَرَّفَهُمْ نَفْسَهُ، فَإِذَا عَرَفُوهُ عَبَدُوهُ” “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের ওপর ঈমান ফরজ করার আগে নিজের পরিচয় তাদের দান করেছেন। যখন তারা তাঁকে চিনতে পেরেছে, তখনই তাঁর ইবাদত করেছে।”

অর্থাৎ, মারেফাত বা পরিচয়হীন ইবাদত প্রকৃত ঈমান নয়; বরং তা প্রাণহীন এক যান্ত্রিক নড়াচড়া মাত্র। মারেফাত বা জ্ঞান হলো ধর্মের মূল, আর ইবাদত হলো তার শাখা। যে ইবাদত সঠিক জ্ঞান ও উপলব্ধি থেকে উৎসারিত নয়, তার বাহ্যিক চাকচিক্য যত বেশিই হোক না কেন, তা মূলত এক অন্তঃসারশূন্য অবয়ব।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ধর্মের লক্ষ্য কেবল কিছু নিয়মনিষ্ঠ মানুষ তৈরি করা নয়; বরং এমন এক সচেতন মানুষ তৈরি করা যারা হৃদয়ের স্বাধীনতা ও বিবেকের পরিপক্বতা নিয়ে পূর্ণতার পথে এগিয়ে যাবে।

 

৩. মানবিকতার পথে যাত্রাই ধর্ম

অনেকের ধারণা ধর্ম এসেছে মানুষকে কেবল ‘ধার্মিক’ বানাতে; কিন্তু বাস্তবতা হলো ধর্ম এসেছে মানুষকে প্রথমে ‘মানুষ’ বানাতে। প্রকৃত বিশ্বাসের পরীক্ষা অধিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয় না; বরং তা হয় নৈতিক অবস্থান, দয়া, সততা এবং দায়িত্ববোধের পরীক্ষায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—

“إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ”

“আমি প্রেরিত হয়েছি কেবল নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্য।” [মুয়াত্তা মালিক, হাদীস: ১৬৪৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ৮৯২৯]

এই সামান্য ক’টি শব্দের মাধ্যমেই নবী (সা.) ধর্ম বোঝার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছেন। যে ইবাদত সুন্দর চরিত্রের জন্ম দেয় না তা অপূর্ণ, আর যে জ্ঞান দয়া ও করুণা উৎপন্ন করে না তা

« <
/ 19
> »