পবিত্রতার বিভ্রম

« <
/ 19
> »

হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়।

অন্যদিকে ইমাম হুসাইন (আ.) এই দর্শনের শ্রেষ্ঠ প্রায়োগিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইয়াযীদের বয়‘আত বা আনুগত্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ সেই বয়‘আত বা চুক্তির অর্থ ছিল—সত্যের পবিত্রতার বদলে ক্ষমতার পবিত্রতাকে মেনে নেওয়া। তিনি বলেছিলেন—

“إِنَّا أَهْلُ بَيْتِ النُّبُوَّةِ، وَمَعْدِنُ الرِّسَالَةِ، وَمُخْتَلَفُ الْمَلَائِكَةِ… وَيَزِيدُ رَجُلٌ فَاسِقٌ شَارِبٌ لِلْخَمْرِ قَاتِلُ النَّفْسِ الْمُحَرَّمَةِ، وَمِثْلِي لَا يُبَايِعُ مِثْلَهُ” “আমরা নবুওয়াতের ঘরানা ও রিসালাতের খনি, ফেরেশতাদের যাতায়াতের স্থান… আর ইয়াযীদ একজন ফাসিক, মদ্যপায়ী এবং নিরপরাধ মানুষের হত্যাকারী। আমার মতো ব্যক্তি তার মতো ব্যক্তির হাতে হাত (আনুগত্য) দিতে পারে না।”

এই কালজয়ী বাক্যের মাধ্যমে ইমাম হুসাইন (আ.) অন্ধ আনুগত্যের মিথ বা রূপকথাকে চূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি পবিত্রতাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন; এই পবিত্রতা রাজসিংহাসনে কিংবা বংশপরম্পরায় নেই, বরং এটি সেই আদর্শিক অবস্থানের মাঝে যা স্বার্থের ঊর্ধ্বে সত্যকে এবং শক্তির ঊর্ধ্বে ন্যায়কে স্থান দেয়।

আলী (রা.) থেকে শুরু করে ইমাম সাদিক (রহ.) হয়ে ইমাম মাহদী (আ.) পর্যন্ত আহলে বাইতের সকল ইমামের অবস্থান একটি কেন্দ্রবিন্দুতেই আবর্তিত ছিল: ধর্মকে কখনোই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, বরং ক্ষমতা যখনই পথ হারাবে, ধর্ম হবে তা রুদ্ধ করার শাণিত তলোয়ার। এ কারণেই তাঁদের বিপ্লব, গবেষণা ও শিক্ষা ছিল আল্লাহর দোহাই দিয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিটি শক্তির হাত থেকে মানুষের চেতনাকে মুক্ত করার এক অবিনাশী প্রকল্প।

 

পবিত্রতা: মুক্তি বনাম উপাস্যকরণ

পবিত্রতা মূলত বিবেককে বন্দি করার কোনো কারাগার নয়; বরং তা হলো অহংকার ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি এবং নিজের সত্তার ঊর্ধ্বে এক বিশাল দিগন্তের উন্মোচন। এটি এক প্রকার শুভ্রতা যা মানুষকে পরম সত্তার সাথে যুক্ত করে এবং তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, বস্তুজগতের ঊর্ধ্বে একটি সার্থকতা রয়েছে আর দেহের আড়ালে রয়েছে এক রুহ বা আত্মা। কিন্তু পবিত্রতা যখন তার এই মুক্তিকামী সারবস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তা ধর্মের নামে এক ‘নতুন মূর্তিতে’ পরিণত হয়। তখন মূল্যবোধের চেয়ে ব্যক্তিকে বেশি পবিত্র জ্ঞান করা হয়। ফলে মানুষ আর আল্লাহর অবতীর্ণ করা সত্যের অনুসারী থাকে না, বরং সে হয়ে যায় এমন এক প্রতীকের বা ক্ষমতার দাস—যারা আল্লাহর নামে কথা বলে।

এখানেই ‘মুক্তিকামী পবিত্রতা’ এবং ‘উপাস্য বা

« <
/ 19
> »