সাধারণ মানুষের জন্য দেননি?” তিনি উত্তরে বললেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বিশেষ এমন কিছু দেননি যা অন্য মানুষকে দেননি; কেবল আমার তলোয়ারের খাপের মধ্যে থাকা এই সহীফাটি (লিখিত কাগজ) ছাড়া।” অতঃপর তিনি সেটি বের করলেন, তাতে লেখা ছিল:
১. “যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করে, তার ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ)।”
২. “যে ব্যক্তি জমির সীমানা চুরি করে (অন্যের জমি দখল করে), তার ওপর আল্লাহর লানত।”
৩. “যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয়, তার ওপর আল্লাহর লানত।”
৪. “যে ব্যক্তি কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেয়, তার ওপর আল্লাহর লানত।”
হাদিসের মান: সহীহ।
পরিচ্ছেদ: গুনাহ বা নাফরমানি না হওয়া পর্যন্ত পিতা–মাতার আনুগত্য করা
১৮ নম্বর হাদিস:
হযরত আবু দারদা (রা.) বর্ণনা করেন, আমার প্রিয় বন্ধু নবীজী ﷺ আমাকে নয়টি বিষয়ে বিশেষ অসিয়ত (নির্দেশনা) করেছেন:
১. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না; যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয় কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।
২. ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামাজ ছেড়ে দিও না; কারণ যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নামাজ ত্যাগ করে, তার ওপর থেকে আল্লাহর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি উঠে যায়।
৩. মদ্যপান করো না; কেননা তা সকল মন্দের চাবিকাঠি।
৪. পিতা-মাতার আনুগত্য করো; তাঁরা যদি তোমার দুনিয়াবি সব সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন, তবে তাঁদের সন্তুষ্টির জন্য তা-ই করো।
৫. নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে বিরোধে যেও না; যদিও তুমি নিজেকে যোগ্য মনে করো।
৬. যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেও না; এমনকি যদি তোমার ধ্বংস অনিবার্য হয় কিংবা তোমার সঙ্গীরা পলায়ন করে তবুও।
৭. সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ব্যয় করো।
৮. পরিবারকে শাসনের হাত থেকে (শিষ্টাচার শেখাতে) একদম মুক্ত ছেড়ে দিও না।
৯. আল্লাহর ভয়ে তাঁদেরকে সতর্ক ও পরিচালিত করো।
হাদিসের মান: হাসান।
১৯ নম্বর হাদিস:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবীজী ﷺ-এর দরবারে এসে আরজ করল, “আমি আপনার কাছে হিজরতের শপথ নিতে এসেছি; অথচ আমি আমার পিতা-মাতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে এসেছি।”
নবীজী ﷺ তাকে বললেন: “তুমি এখনই তাঁদের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদের দুজনকে সেভাবেই হাসাও যেমনটি তুমি তাঁদের কাঁদিয়ে এসেছ।”
হাদিসের মান: সহীহ।
