ইবনে উমর (রা.)-কে জিজ্ঞেস করল, “হে ইবনে উমর! আপনি কি মনে করেন আমি আমার মায়ের হক আদায় করতে পেরেছি?” ইবনে উমর (রা.) উত্তর দিলেন, “না, প্রসব বেদনার সময় তাঁর একটি দীর্ঘশ্বাসের সমান প্রতিদানও তুমি দাওনি।”
অতঃপর ইবনে উমর (রা.) তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমে দু-রাকাত নামাজ আদায় করলেন এবং বললেন, “হে আবু মুসার পুত্র! জেনে রেখো, এই দুই রাকাত নামাজ তার আগের ছোটখাটো গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়।”
হাদিসের মান: সহীহ
১২ নম্বর হাদিস:
আবু মুররাহ (র.) থেকে বর্ণিত, মারওয়ান ইবনে হাকাম যখন মদিনার বাইরে যেতেন তখন আবু হুরায়রা (রা.)-কে প্রতিনিধি বানিয়ে যেতেন। আবু হুরায়রা (রা.) ‘যুল হুলাইফা’ নামক স্থানে থাকতেন। তাঁর মা থাকতেন একটি ঘরে আর তিনি থাকতেন অন্য একটি ঘরে। যখনই তিনি ঘর থেকে বের হতেন, মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন, “আসসালামু আলাইকি ইয়া উম্মাতাহ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (হে মা! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। উত্তরে মা বলতেন, “ওয়া আলাইকাস সালামু ইয়া বুনায়্যা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (হে আমার সন্তান! তোমার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তখন আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন, “আল্লাহ আপনার প্রতি তেমন রহম করুন যেমনটি আপনি আমার ছোটবেলায় আমাকে লালন-পালন করে করেছিলেন।” মা উত্তরে বলতেন, “আল্লাহ তোমার প্রতি তেমন রহম করুন যেমনটি তুমি আমার বার্ধক্যে আমার প্রতি সদাচরণ করছ।” তিনি ঘরে প্রবেশের সময়ও একইভাবে সালাম ও দোয়া বিনিময় করতেন।
হাদিসের মান: য‘ঈফ।
১৩ নম্বর হাদিস:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবীজী ﷺ-এর কাছে হিজরতের বায়আত নিতে এল। সে তার পিতা-মাতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছিল। তখন নবীজী ﷺ তাকে বললেন: “তুমি তাঁদের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদের দুজনকে সেভাবেই হাসাও যেমনটি তুমি তাঁদের কাঁদিয়ে এসেছিলে।” (অর্থাৎ তাঁদের সেবা করে সন্তুষ্ট করো)।
হাদিসের মান: সহীহ।
১৪ নম্বর হাদিস:
উম্মেহানি বিনতে আবু তালিবের মুক্তদাসী আবু মুররাহ (র.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার আবু হুরায়রা (রা.)-এর সাথে তাঁর ‘আকীক’ নামক অঞ্চলের জমির দিকে যাচ্ছিলেন। আবু হুরায়রা (রা.) যখন তাঁর জমিতে প্রবেশ করলেন, তখন উচ্চস্বরে ডেকে বললেন, “হে মা! আপনার ওপর
