গুনাহ করে ফেললাম যা আমার কাছে কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) বলে মনে হচ্ছিল। আমি বিষয়টি ইবনে উমর (রা.)-কে জানালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “সেগুলো কী কী?” আমি বিস্তারিত বললে তিনি বললেন, “এগুলো কবিরা গুনাহ নয়।”
তিনি আরও বললেন, “কবিরা গুনাহ মোট নয়টি: ১. আল্লাহর সাথে শরিক করা, ২. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা, ৩. যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, ৪. সতী নারীকে অপবাদ দেওয়া, ৫. সুদ খাওয়া, ৬. এতিমের মাল ভক্ষণ করা, ৭. মসজিদে হারামের পবিত্রতা নষ্ট করা (বিদআত বা অবমাননা), ৮. উপহাসকারী বা জাদুকর এবং ৯. অবাধ্যতার মাধ্যমে পিতা-মাতাকে কাঁদানো।”
অতঃপর ইবনে উমর (রা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি জাহান্নামকে ভয় পাও এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!” তিনি বললেন, “তোমার পিতা-মাতা কি বেঁচে আছেন?” আমি বললাম, “আমার মা আছেন।” তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! তুমি যদি তাঁর সাথে নরম সুরে কথা বলো এবং তাঁকে খাবার খাওয়াও, তবে অবশ্যই তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে—যতক্ষণ না তুমি কবিরা গুনাহগুলোতে লিপ্ত হও।”
হাদিসের মান: সহীহ।
৯ নম্বর হাদিস:
হিফজুল কুরআন ও তাফসীরের প্রখ্যাত তাবিঈ উরওয়াহ (র.) আল্লাহ তাআলার এই বাণী— “মমতাবশে তাঁদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো” (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৪) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: “তাঁরা (পিতা-মাতা) যা কিছু পছন্দ করেন, তার কোনোটি থেকেই তাঁদের বঞ্চিত করো না (অর্থাৎ তাঁদের চাওয়া-পাওয়া হাসি মুখে পূরণ করো)।”
হাদিসের মান: সহীহ
পরিচ্ছেদ: পিতা–মাতার প্রতি সন্তানের কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান
১০ নম্বর হাদিস:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী ﷺ বলেছেন: “সন্তান তার পিতার ঋণের বোঝা কোনোভাবেই শোধ করতে পারে না; কেবল একটি ক্ষেত্র ছাড়া—যদি সে তার পিতাকে দাস অবস্থায় পায় এবং তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দেয়।”
হাদিসের মান: সহীহ
১১ নম্বর হাদিস:
সাঈদ ইবনে আবু বুরদাহ (র.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনে উমর (রা.)-কে এক ইয়েমেনি লোকের সাথে দেখলেন। লোকটি তার বৃদ্ধা মাকে পিঠে করে কাবা ঘর তাওয়াফ করাচ্ছিল এবং আবৃত্তি করছিল: “আমি আমার মায়ের এক বাধ্য অনুগত উট, অন্য আরোহীরা উত্যক্ত বা আতঙ্কিত হলেও আমি বিচলিত নই।”
এরপর সে
