আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বেদুইন রোগীকে দেখতে গেলেন। তিনি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: “ভয় নেই, (এই অসুস্থতা তোমার গুনাহ থেকে) পবিত্রকারী হবে ইনশাআল্লাহ।” বেদুইনটি (একটু রূঢ়ভাবে) বলল, “আপনি একে পবিত্রকারী বলছেন? বরং এটি এমন এক প্রবল জ্বর যা এক বৃদ্ধ মানুষকে গ্রাস করছে, যা তাকে কবরের দিকে নিয়ে যাবে।” নবীজী ﷺ বললেন: “তবে তা-ই হোক (অর্থাৎ তুমি যেমনটা ভাবছো)।” (মান: সহীহ)

 

পরিচ্ছেদ: রোগী দেখার ফজিলত

৫১৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের মধ্যে আজ কে রোজা রেখেছ?” আবু বকর (রা.) বললেন, “আমি।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “তোমাদের মধ্যে আজ কে কোনো রোগীকে দেখতে গিয়েছ?” আবু বকর (রা.) বললেন, “আমি।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “আজ কে কোনো জানাজায় অংশ নিয়েছ?” আবু বকর (রা.) বললেন, “আমি।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “আজ কে কোনো মিসকিনকে খাবার দিয়েছ?” আবু বকর (রা.) বললেন, “আমি।” তখন নবীজী ﷺ বললেন: “যে ব্যক্তির মধ্যে একদিনে এই গুণগুলো একত্রিত হয়, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মান: সহীহ)

৫১৬. হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত— নবীজী ﷺ উম্মুস সায়েব নামক এক মহিলার কাছে গেলেন। দেখলেন সে জ্বরে কাঁপছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কী হয়েছে?” সে বলল, “জ্বর! আল্লাহ একে লাঞ্ছিত করুক।” নবীজী ﷺ বললেন: “খবরদার! জ্বরকে গালি দিয়ো না। কারণ এটি মুমিনের গুনাহসমূহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন কামারের হাপর লোহার মরিচা দূর করে।” (মান: সহীহ)

৫১৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন: “হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাওয়াওনি।” বান্দা বলবে, “হে প্রতিপালক! আমি আপনাকে কীভাবে খাওয়াতাম? আপনি তো বিশ্বজগতের পালনকর্তা!” আল্লাহ বলবেন: “তুমি কি জানতে না যে আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে দাওনি? যদি তাকে খাওয়াতে তবে আজ তা আমার কাছে পেতে।” একইভাবে আল্লাহ পানির কথা বলবেন। এরপর বলবেন: “হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসোনি।” বান্দা বলবে, “হে প্রভু! আপনি তো রাব্বুল আলামিন, আপনাকে আমি কীভাবে দেখতে যেতাম?” আল্লাহ বলবেন: “আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তুমি কি তা জানতে না? তুমি যদি তাকে দেখতে

« <
/ 122
> »