আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

দুটি দড়ি দিয়ে ঘাড়ের সাথে বেঁধে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো। পথে যাওয়ার সময় যখন তাঁকে পতিতা নারীদের আড্ডার পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তিনি তাঁদের দেখে মৃদু হাসলেন।

 

রাজা তাঁকে বললেন, ‘এই নারী তোমার নামে কী বলছে শোনো!’ জুরাইজ জিজ্ঞেস করলেন, ‘সে কী দাবি করছে?’ রাজা বললেন, ‘তার দাবি, এই শিশু তোমার সন্তান।’ জুরাইজ নারীটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সত্যিই এমন দাবি করছ?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ জুরাইজ তখন বললেন, ‘সেই শিশুটি কোথায়?’ লোকেরা বলল, ‘এই তো মায়ের কোলে।’ জুরাইজ শিশুটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘হে শিশু! বলো তো তোমার বাবা কে?’ শিশুটি অলৌকিকভাবে কথা বলে উঠল, ‘আমার বাবা ওই রাখাল।’ সব সত্য প্রকাশ পেলে রাজা লজ্জিত হয়ে বললেন, ‘আমরা কি আপনার গির্জাটি সোনা দিয়ে বানিয়ে দেব?’ জুরাইজ বললেন, ‘না।’ রাজা বললেন, ‘তবে রুপা দিয়ে?’ জুরাইজ বললেন, ‘না, বরং আগের মতো মাটি দিয়েই তৈরি করে দিন।’ রাজা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কেন মৃদু হেসেছিলেন?’ জুরাইজ বললেন, ‘আমি একটি রহস্য বুঝতে পেরে হাসছিলাম; সেটি হলো—আজ আমার মায়ের বদদোয়া আমাকে ঠিকই ধরে ফেলেছিল।’ এরপর তিনি তাঁদের বিস্তারিত ঘটনা খুলে বললেন।”

 

হাদিসের মান: সহীহ।

 

পরিচ্ছেদ: খ্রিস্টান (অমুসলিম) মায়ের কাছে ইসলাম পেশ করা

৩৪ নম্বর হাদিস:

 

আবু কাসীর আল-সুহায়মী (র.) বর্ণনা করেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি: “কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান আমার কথা শুনেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি—এমনটি ঘটেনি। আসলে আমি চাইতাম আমার মা ইসলাম গ্রহণ করুক, কিন্তু তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করতেন। একদিন আমি তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তিনি (নবীজী সম্পর্কে) অত্যন্ত কটু কথা বললেন, যা আমাকে দারুণ ব্যথিত করল। আমি কাঁদতে কাঁদতে নবীজী ﷺ-এর কাছে গিয়ে আরজ করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার মায়ের হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।’ নবীজী ﷺ দোয়া করলেন।

 

আমি বাড়ি ফিরে দেখলাম মা দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছেন। (পানির শব্দ পাচ্ছিলাম)। মা বললেন, ‘আবু হুরায়রা, ওখানেই থামো!’ এরপর তিনি পোশাক পরে বাইরে এসে বললেন, ‘হে আবু হুরায়রা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’ আমি খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে নবীজী ﷺ-এর কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার ও

« <
/ 122
> »