আদাবুল মুফরাদ

« <
/ 122
> »

আমার মায়ের জন্য দোয়া করুন (যেন মানুষ আমাদের ভালোবাসে)।’ নবীজী ﷺ দোয়া করলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দা আবু হুরায়রা এবং তাঁর মাকে আপনার মুমিন বান্দাদের প্রিয় বানিয়ে দিন‘।”

 

হাদিসের মান: হাসান।

 

পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর পর পিতা–মাতার সাথে সদাচরণ

৩৫ নম্বর হাদিস:

 

আবু উসাইদ (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা একদা নবীজী ﷺ-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাঁদের সাথে সদাচরণ করার মতো কি আর কোনো কাজ বাকি আছে?“

নবীজী ﷺ বললেন: “হ্যাঁ, চারটি কাজ: ১. তাঁদের জন্য দোয়া করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, ২. তাঁদের কৃত প্রতিশ্রুতি বা অসিয়ত পূরণ করা, ৩. তাঁদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং ৪. তাঁদের মাধ্যমে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে (ফুফু, খালা প্রমুখ) তা বজায় রাখা।”

 

হাদিসের মান: য‘ঈফ।

 

৩৬ নম্বর হাদিস:

 

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মৃত্যুর পর কোনো কোনো বান্দার মর্যাদার স্তর (জান্নাতে) বৃদ্ধি করা হয়। তখন সেই ব্যক্তি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “হে আমার প্রতিপালক! এটি কীভাবে সম্ভব হলো? (আমি তো আর আমল করছি না!)” তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করেছে, তারই বিনিময়ে এই মর্যাদা।”

 

হাদিসের মান: হাসান।

 

৩৭ নম্বর হাদিস:

 

গালিব (র.) বর্ণনা করেন, প্রখ্যাত তাবিঈ মুহাম্মদ ইবনে সীরীন বলেছেন: এক রাতে আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে ছিলাম। তিনি দোয়া করছিলেন, “হে আল্লাহ! আপনি আবু হুরায়রাকে ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন তাঁর মাকে এবং সেই ব্যক্তিকে যে তাঁদের দুজনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।” মুহাম্মদ ইবনে সীরীন বলেন, “তাই আমরা সবসময় তাঁদের জন্য দোয়া করি, যাতে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সেই দোয়ার বরকতে আমরাও শামিল হতে পারি।”

 

হাদিসের মান: সহীহ।

 

৩৮ নম্বর হাদিস:

 

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি পথ খোলা থাকে: ১. সদকায়ে জারিয়া (প্রবহমান দান), ২. এমন জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে এবং ৩. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”

 

হাদিসের মান: সহীহ।

« <
/ 122
> »