করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।” এ সময় তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, এরপর সোজা হয়ে বসলেন এবং গুরুত্বের সাথে বললেন, “আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।”
হাদিসের মান: য‘ঈফ।
পরিচ্ছেদ: পিতা–মাতাকে কাঁদানো
৩১ নম্বর হাদিস:
হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন: “পিতা-মাতাকে কাঁদানো তাঁদের অবাধ্যতারই শামিল এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ।”
হাদিসের মান: সহীহ।
পরিচ্ছেদ: পিতা–মাতার দোয়া (ও বদদোয়া)
৩২ নম্বর হাদিস:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী ﷺ বলেছেন: “তিনটি দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই: মজলুমের (জুলুমের শিকার ব্যক্তি) দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার দোয়া (বদদোয়া)।”
হাদিসের মান: হাসান।
৩৩ নম্বর হাদিস:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: “পৃথিবীতে দোলনায় থাকা অবস্থায় কেবল তিনজন শিশু কথা বলেছিল—ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.) এবং জুরাইজ-এর সাথী (সেই শিশুটি)।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর নবী! জুরাইজ-এর সাথী কে?“
নবীজী ﷺ বললেন: “জুরাইজ ছিলেন একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি, যিনি নিজের গির্জায় (ইবাদতখানায়) মগ্ন থাকতেন। এক রাখাল তার গির্জার নিচে গরু চরাতো। গ্রামের এক দুশ্চরিত্রা নারী সেই রাখালের কাছে যাতায়াত করত। একদিন জুরাইজ যখন নামাজ পড়ছিলেন, তখন তাঁর মা এসে তাঁকে ডাকলেন, ‘হে জুরাইজ!’ জুরাইজ মনে মনে ভাবলেন, ‘একদিকে আমার মা, অন্যদিকে আমার নামাজ!’ তিনি নামাজের প্রাধান্য দিয়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না। মা দ্বিতীয়বার ডাকলেন, এবারও তিনি মনে মনে বললেন, ‘আমার মা না কি আমার নামাজ?’ এবারও তিনি নামাজ চালিয়ে গেলেন। মা যখন তৃতীয়বার ডেকেও কোনো সাড়া পেলেন না, তখন মনে কষ্ট পেয়ে বদদোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! কোনো পতিতা নারীর মুখ না দেখা পর্যন্ত যেন জুরাইজের মৃত্যু না হয়।’ এরপর মা চলে গেলেন।
পরবর্তীতে সেই নারী একটি সন্তান জন্ম দিল এবং রাজার দরবারে নীত হলো। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই সন্তান কার?’ নারীটি (জুরাইজকে ফাঁসাতে) বলল, ‘জুরাইজের।’ রাজা অবাক হয়ে বললেন, ‘সেই গির্জাবাসী জুরাইজ?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ তখন রাজা নির্দেশ দিলেন, ‘ওর গির্জা ভেঙে ফেলো এবং ওকে আমার কাছে নিয়ে এসো।’ লোকেরা কুঠার দিয়ে আঘাত করে তাঁর ইবাদতখানা ধুলোয় মিশিয়ে দিল। জুরাইজের হাত
