তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

স্বাদ অন্বেষণ করা চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাব।
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) মিলনের এক অদ্ভুত রহস্য উন্মোচন করে বলেন:
“মন যখন কাউকে ভালোবাসে, তখন সে তার অতি নিকটবর্তী হতে চায়। আলিঙ্গন হলো সেই নৈকট্যের প্রথম ধাপ। এরপর সে আরও নৈকট্য চায়, তাই গালে চুম্বন করে। এরপর সে চায় আত্মার আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে, তাই মুখে চুম্বন করে (নবী সা. আয়েশা রা.-কে চুম্বন করতেন)। পরিশেষে মন যখন আত্মার সাথে আত্মার পরম মিলন চায়, তখন সে যৌন সম্ভোগের পথ বেছে নেয়। এটিই এর আত্মিক রহস্য, যা থেকে শারীরিক স্বাদ অর্জিত হয়।”
‘লাজ্জাহ’ (Lust) বনাম ‘নাশওয়াহ’ (Bliss)
দাম্পত্য জীবনে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি (نشوة) রয়েছে যা জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলোর অন্যতম। অনেক পুরুষই তা জানে না, কারণ তারা মিলনকে কেবল ‘লজ্জত’ বা জৈবিক স্বাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করে। অধ্যাপক হাসান আব্বাস তাঁর ‘বাইন আদাবিন নাশওয়াহ ওয়া আদাবিল লাজ্জাহ’ প্রবন্ধে এই দুটির পার্থক্য চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন:
লাজ্জাহ (Lust/Pleasure): এটি ক্ষণস্থায়ী, এর কোনো ধারাবাহিকতা নেই; এটি ভাসাভাসা অনুভূতি যাতে আবেগের গভীরতা নেই। এটি প্রবৃত্তির কাছে পরাজয় এবং বিবেকের ঘুম।
নাশওয়াহ (Ecstasy/Bliss): এটি দীর্ঘস্থায়ী ও অনুভূতির গভীরে প্রোথিত। এটি স্নায়বিক প্রশান্তির এক দীর্ঘ স্থিতি। নাশওয়াহ হলো প্রবৃত্তির ওপর অনুভূতির জয় এবং জাগ্রত বিবেক ও আত্মিক অমরত্বের নাম।
এখানে এক গ্রাম্য আরব ও শহরবাসীর কথোপকথন শিক্ষণীয়। শহরবাসী যখন মিলনের তীব্রতা ও ধস্তাধস্তিকে ভালোবাসা হিসেবে বর্ণনা করল, তখন গ্রাম্য আরবটি বিস্ময়ভরে আরজ করল— “আল্লাহর কসম! এমন আচরণ তো চরম শত্রুর সাথেও করা হয় না, প্রিয়তমার সাথে তা কীভাবে সম্ভব?!” তাদের কাছে ভালোবাসা ছিল— লালা চুষে নেওয়া, ঠোঁটে চুম্বন করা এবং চমৎকার সব কথা বিনিময় করা।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) মিলনের শারীরিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: অতিরিক্ত মিলন শারীরিক শক্তি কমিয়ে দেয়, স্নায়ুর ক্ষতি করে এবং শরীরে কাঁপুনি, পক্ষাঘাত ও খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। এটি দৃষ্টিশক্তি ও অন্যান্য ইন্দ্রিয়কেও দুর্বল করে ফেলে।
মিলনের উপযুক্ত সময় ও সতর্কতা:
১. যখন পাকস্থলীর খাবার হজম হয়ে যায় এবং আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় মিলন করা উচিত নয় কারণ এতে শরীরের স্বাভাবিক উত্তাপ কমে যায়।
৩. আবার

« <
/ 351
> »