বের হন, তখন ফেরেশতারা জিকির শোনার জন্য উপস্থিত হন।” [সহীহ বুখারী]
এখানে ‘জানাবাতের গোসলের মতো গোসল’ বলতে অনেক মুহাদ্দিস জুমুআর সকালে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার পর ফরজ গোসল সম্পন্ন করাকে বুঝিয়েছেন, যাতে করে জুমুআর নামাজে যাওয়ার সময় মন ও শরীর পূর্ণ প্রশান্ত থাকে।
মিলনের মাত্রা ও বার্ধক্যের প্রস্তুতি
তবে এই জৈবিক চাহিদাকে সুশৃঙ্খল ও পরিমিত রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এটি যুবকদের জন্য একটি ন্যূনতম নির্দেশনা হলেও ব্যক্তি ও বয়সভেদে এর মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। মধুচন্দ্রিমা বা বাসর পরবর্তী বিশেষ সময় বাদ দিলে সাধারণত সপ্তাহে দুবারের বেশি মিলন না করাই শ্রেয়। আর বয়স যখন ষাটোর্ধ্ব হয়, তখন এর মাত্রা আরও কমিয়ে আনা উচিত।
মনে রাখা প্রয়োজন, অতিরিক্ত মিলন যেমন শরীর ও মস্তিষ্ককে দুর্বল করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তেমনি একে একবারে বর্জন করাও যৌন আকাঙ্ক্ষাকে স্তিমিত করে দেয়। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ বা মানসিক ব্যর্থতা তৈরি হতে পারে। একজন বিদুষী স্ত্রী তাঁর বুদ্ধিমত্তা, রুচিশীল সাজসজ্জা ও আকর্ষণ দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর এই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন; যাতে কোনো বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি না হয় এবং উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ
যৌন সম্ভোগের চেয়ে আত্মিক ভালোবাসার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘সয়দুল খাতির’-এ কতই না চমৎকার উপদেশ দিয়েছেন! তিনি বলেন:
“একজন কিশোর যখন বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, তখন থেকেই তার উচিত মিলনের ব্যাপারে পরিমিত হওয়া, যাতে তার বীর্য বা জীবনীশক্তি সংরক্ষিত থাকে; যা তার বার্ধক্যে উপকারে আসবে। কারণ বার্ধক্য অনিবার্য, আর সেই সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই হলো বিচক্ষণতা। জ্ঞানী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের বোঝা উচিত যে, প্রকৃত তৃপ্তি কেবল প্রিয়জনের সান্নিধ্যেই নিহিত। আর এই সান্নিধ্য চুম্বন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা ভালোবাসাকে শক্তিশালী করে এবং ভালোবাসার অস্তিত্বই হলো পরম আনন্দ। কিন্তু মিলন (যৌন সম্ভোগ) অনেক সময় ভালোবাসা কমিয়ে দেয় এবং সেই আত্মিক স্বাদ নষ্ট করে ফেলে।”
প্রাচীন আরবদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা প্রেমে পাগল হতো ঠিকই, কিন্তু প্রিয়তমার সাথে মিলনে লিপ্ত হওয়াকে খুব একটা পছন্দ করত না। তাদের একজন বলেছিলেন— “ভালোবাসা যখন মিলনে রূপ নেয়, তখন তা নষ্ট হয়ে যায়!” সুতরাং কেবল মিলনের পাশবিক
