তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর নয়। বরং নিজেকে সংযমের প্রশিক্ষণ দেওয়াই হলো সংস্কারের মূল ভিত্তি। একটি সহীহ হাদিসে এই ধ্রুব সত্যটি প্রতিধ্বনিত হয়েছে: “প্রকৃত জ্ঞান আসে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টার মাধ্যমে, আর সহনশীলতা আসে ধৈর্য ধারণের অভ্যাসের মাধ্যমে।” [আল-মু’জামুল কাবীর: ২৬৫৩]। অন্যান্য চারিত্রিক গুণের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য।

(এটি ‘তাবীবুকাল খাস’ সাময়িকীর (৩৬তম সংখ্যা, ৩য় বর্ষ) একটি নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপ। প্রবন্ধের প্রথম তিনটি উত্তর ডক্টর হাসান এবং শেষ দুটি উত্তর ডক্টর সা’দ বর্ণনা করেছেন।)

উপসংহার

দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি স্তরেই রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। মধ্যবয়সে যৌন শীতলতা একটি স্বাভাবিক সমস্যা, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া, ভালোবাসা ও সচেতন প্রচেষ্টায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। একইভাবে, যৌন বিকৃতি থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো নিজেকে সংযমের অভ্যাসে অভ্যস্ত করা এবং ইসলামের দেয়া সীমারেখার মধ্যে থাকা। এই গ্রন্থে আমরা ইসলামী দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য, সন্তান লালন-পালন, পিতা-মাতার মর্যাদা, পর্দা ও শালীনতার গুরুত্ব, পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার উপায় এবং সর্বোপরি জান্নাতের অপূর্ব প্রতিদান—সবকিছুই কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আমরা বিশ্বাস করি, যে পরিবার আল্লাহর বিধান মেনে চলে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে, সে পরিবার দুনিয়াতেও জান্নাতের নমুনা এবং আখিরাতেও জান্নাত লাভ করবে। আমাদের শেষ আহ্বান—আসুন, আমরা সবাই নিজেদের সংশোধন করি, আমাদের পরিবারগুলোকে সুন্দর করি এবং একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও আদর্শবান জাতি গঠনে সচেষ্ট হই।

হে আমাদের রব! আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের জন্য চক্ষুশীতলকারী করুন। আমাদের সন্তানদের নেককার ও আদর্শবান করুন। আমাদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমাদের চোখ, কান ও জিহ্বাকে সংযত রাখার শক্তি দিন। আমাদের অন্তর ও লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখুন। আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি দান করুন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন। আমীন, ছুম্মা আমীন।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

« <
/ 351
> »