যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তখন দেখা যায় তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ও প্রজননতন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। এমতাবস্থায় স্বামী বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন যে, সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেন এই অনীহা। এর কারণগুলো আসলে বেশ সাধারণ এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আচরণের মধ্যেই নিহিত। দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিবেশে এবং একই অভ্যস্ততায় মিলিত হওয়ার ফলে যৌনতা তার আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে এবং এটি একটি একঘেয়ে রুটিনকাজে পরিণত হয়। এর সাথে যুক্ত হয় স্ত্রীর ঘরকন্না নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততা এবং স্বামীর কর্মক্ষেত্র, বৈষয়িক সমস্যা ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে মগ্ন থাকা। ফলে তারা একই ছাদের নিচে এবং একই বিছানায় যাপন করলেও মানসিকভাবে একে অপরের কাছে অচেনা হয়ে পড়েন; প্রত্যেকেই যার যার নিজস্ব ভাবনার জগতে বসবাস করেন।
যৌনতা হলো পারস্পরিক ভালোবাসার এক পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক বহিঃপ্রকাশ। তাই যদি ভালোবাসা শিথিল হয়ে যায়, তবে যৌনতার আবেদনও ফিকে হয়ে আসে। এক্ষেত্রে স্বামীর সবচেয়ে বড় ভুল হলো স্ত্রীকে কেবল ভোগবিলাসের সামগ্রী মনে করা এবং তার মানসিক অবস্থা বা সম্মতির তোয়াক্কা না করে যখন-তখন মিলিত হতে চাওয়া। অন্যদিকে স্ত্রীর বড় ভুল হলো—বাইরের বা ঘরের সমস্ত সমস্যা স্বামীর সামনে তুলে ধরে তাকে বিব্রত করা এবং তার সামর্থ্যের অতীত আর্থিক ও বৈষয়িক চাপ সৃষ্টি করা। এর ফলে স্বামী প্রথমে নিজের প্রতি এবং পরে স্ত্রীর প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠে। দাম্পত্যে যৌন জীবনের সজীবতা টিকিয়ে রাখার মূল ভিত্তি হলো—পরস্পরের প্রতি বোঝাপড়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং ছোটখাটো ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তুষ্ট থাকা; অহেতুক তর্ক, ঝগড়া কিংবা ক্রোধ প্রদর্শন নয়।
যৌন বিকৃতি (Sexual Perversion)
যৌন বিকৃতি বলতে মূলত স্বাভাবিক বা প্রচলিত নিয়মের বাইরে যাওয়াকেই বোঝানো হয়। একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর প্রতি আকর্ষণ বোধ করে এবং বংশবিস্তারের মহৎ উদ্দেশ্যে প্রেম-ভালোবাসার সাথে তাদের প্রজননতন্ত্রের পূর্ণ মিলন ঘটে।
যৌন বিকৃতির কিছু কারণ শৈশবের ভুল লালন-পালনের মধ্যে নিহিত; যেমন—শিশুর সবসময় মায়ের প্রতি অতি-আসক্তি এবং বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। আবার সমাজের পচনশীল অবস্থাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। দেরিতে বিয়ে করা, ইচ্ছাশক্তিকে নিয়ন্ত্রণে না রাখা কিংবা সঠিক ধর্মীয় নির্দেশনার অভাব—সবই এই বিকৃতির পথ প্রশস্ত করে। আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ফ্রয়েডীয় মতবাদের ‘মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ এ
