ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় আরও বলেন:
“প্রত্যেকটি আনন্দ যা পরকালের সুখ লাভের ক্ষেত্রে সহায়ক, তা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। এমন আনন্দের অধিকারী ব্যক্তি দুই দিক থেকে স্বাদ পায়—এক হলো নিজের চোখের শীতলতা ও উপভোগের মাধ্যমে, আর দ্বিতীয় হলো এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে যা তাকে আরও বড় আনন্দের দিকে নিয়ে যায়। একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত এমন আনন্দই খোঁজা, যার পেছনে কোনো যন্ত্রণার ভয় নেই। এমনকি হালাল আনন্দের মাধ্যমেও যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকে, তবে স্ত্রী থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি সুখেও মুমিন সওয়াব পায়। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন— ‘তোমাদের প্রত্যেকের মিলনেও সদকাহ রয়েছে’।”
নারী ও দাম্পত্যের মর্যাদা
বিয়ের প্রতি এই উৎসাহ প্রদান, নারীর প্রতি মমত্ববোধ এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির এই সুমহান আদর্শ কি সেই সব বিকৃত ধর্মের মাঝে পাওয়া যাবে যারা নারীকে আপদ মনে করে, বিয়েকে অপবিত্র গণ্য করে এবং সংসার ত্যাগের আহ্বান জানায়?!
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি—ইসলামে ইবাদত কেবল নামাজ-রোজার মতো আনুষ্ঠানিকতার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের সামগ্রিক জীবনকে পরিবেষ্টিত করে রাখে। যদি আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য আল্লাহর ইবাদত হয়, তবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকেই ইবাদত হিসেবে দেখতে হবে। অর্থাৎ আমাদের প্রতিটি কাজ—তা যত ছোটই হোক না কেন—যদি সচেতনভাবে সঠিক নিয়তে করা হয়, তবে তা মহান আল্লাহর তৈরি সেই মহাজাগতিক ইবাদতেরই অংশ হয়ে যায়। [ইসলাম অন দ্য ক্রস রোডস, ৪র্থ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৩]
জুমুআর দিনে সস্ত্রীক মিলনের পুরস্কার ও পরিমিতিবোধ
জুমুআর দিন মুমিনের জন্য এক পাক্ষিক ঈদের দিন। এই দিনের প্রতিটি আমল বরকতময়। রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমুআর দিনের প্রস্তুতির গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে পরোক্ষভাবে দাম্পত্য মিলনের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন। হাদীস শরীফে এসেছে— নবী (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে জানাবাতের (অপবিত্রতা দূর করার) গোসলের মতো গোসল করল, অতঃপর (নামাজের জন্য) প্রথম সময়ে মসজিদে গেল, সে যেন একটি উট কুরবানি করল। যে দ্বিতীয় সময়ে গেল, সে যেন একটি গরু কুরবানি করল। যে তৃতীয় সময়ে গেল, সে যেন একটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল। যে চতুর্থ সময়ে গেল, সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল। আর যে পঞ্চম সময়ে গেল, সে যেন একটি ডিম সদকাহ করল। অতঃপর ইমাম যখন খুতবার জন্য
