তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

হয়ো না’ (ولا تقربوهن حتى يطهرن)—তবে দেখা যাবে যে, এই আয়াত ও এর সমজাতীয় উদাহরণগুলো হয় কোনো ইশারা ও ইঙ্গিত বহন করছে, নয়তো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মার্জিত শব্দের আবরণে ঢাকা, কিংবা একটি চমৎকার রূপক কাঠামোতে ঢেলে সাজানো। যেমন— ‘নিকটবর্তী হয়ো না’, ‘যখন সে তাকে আচ্ছন্ন করল’ (فلما تغشاها), ‘তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করলে’ ইত্যাদি। আবার কখনো অত্যন্ত চমৎকারভাবে নারীর তুলনা করা হয়েছে শস্যক্ষেত্রের সাথে: ‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র’।

সম্ভবত পবিত্র কুরআন তার এই অভিব্যক্তি ও নির্দেশনার মাধ্যমে একটি বিশেষ সামাজিক শিষ্টাচার ও আদবকায়দার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। তা হলো—দাম্পত্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও যেন এক সৌকর্য ও সৌজন্যের বেষ্টনীর ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেখানে খোলা ও স্থূল অভিব্যক্তির চেয়ে ইশারা ও মায়াভরা ভাষা বেশি শোভা পায়। শারীরিক মিলন ও যৌন সংসর্গ যেন এক ধরনের সূক্ষ্ম রুচিবোধ ও আদব-কায়দার বেষ্টনীতে আবৃত থাকে। সেখানে সরাসরি ও নগ্ন প্রকাশভঙ্গির চেয়ে ইঙ্গিত বা ইশারাই যথেষ্ট। কোনো পক্ষের সরাসরি আহ্বান বা স্থূলতার চেয়ে সাজসজ্জা, সৌন্দর্যচর্চা কিংবা সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করাটাই শ্রেয়।

ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীর প্রসঙ্গে এই ভূমিকায় সূরাহ ইউসুফ-এর সেই চমৎকার শৈলী, শিক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করা জরুরি, যা প্রতিটি দম্পতির বোঝা প্রয়োজন। এটি কুরআনী গল্পের এমন এক আদর্শ যা জীবনকে সঠিক পথের দিশা দেয় এবং যার প্রতিটি পরতে পরতে সম্মান, পবিত্রতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে।

আমরা সেখানে দেখতে পাই এক উদ্দাম যৌবনের তারুণ্য, এক দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা, একটি সুসজ্জিত মোহনীয় পরিবেশ এবং তীব্র যৌনক্ষুধা। আমরা দেখি কামনার সেই লেলিহান শিখা কীভাবে যুক্তিবাদী মনের সামনে ফুঁসে উঠছে। সেই আগুনের উত্তাপ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, কামনার দহন চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছে; কিন্তু বিবেক তার মাথা নত করছে না। আমরা দেখি আযীযের স্ত্রী কীভাবে তার যাবতীয় সমরাস্ত্র আর কৌশল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে—সে তার রূপ-যৌবন মেলে ধরেছে, নানা ছলাকলার আশ্রয় নিচ্ছে; আর অন্যদিকে ইউসুফ (আ.) স্বীয় প্রভুর নিদর্শন দেখার পর নিজেকে সংবরণ করছেন এবং যাবতীয় প্রলোভন প্রতিরোধ করছেন।

ইউসুফ (আ.) যে ‘বুরহান’ বা নিদর্শন দেখেছিলেন, তা হলো—ঈমান। হ্যাঁ, কেবল ঈমানের কন্ঠস্বরই ছিল সেটি। সেই চূড়ান্ত মুহূর্তে—যখন মানুষ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকে, যখন

« <
/ 351
> »