তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

এবং তাঁর তাকওয়া ও নজরদারির কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো আলোচনাটিতে এক ধরনের লজ্জা, গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় থাকে; পাঠক পশুতুল্য কামুকতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় না। এটিই কুরআনী বাচনভঙ্গির স্বকীয়তা। অথচ সাধারণ যৌন-বিষয়ক বইগুলোতে এই আধ্যাত্মিক সংযোগ না থাকায় তা পাঠকের পদস্খলনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীটি লক্ষ্য করুন:
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلَاقُوهُ ۗ وَبَشَّرِ الْمُؤْمِنِينَ
“তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারো। আর তোমরা নিজেদের কল্যাণের জন্য আগে থেকেই নেক আমল পাঠাও এবং আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, তোমাদের তাঁর সামনে উপস্থিত হতে হবে। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৩]

আমি ১৩৭৩ হিজরীতে ‘আত-তারবিয়াতুল জিনসিয়্যাহ আলাল মাকশূফ’ (উন্মুক্ত যৌন শিক্ষা) শিরোনামে একটি পুস্তিকা লিখেছিলাম। সেখানে সূরাহ ইউসুফের কিছু আয়াত এবং উদ্ভিদ পরাগায়ণের উদাহরণ ব্যবহার করে কিশোর-তরুণদের সেই সব যৌন জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছিলাম যা তারা জানতে চায়। সেই আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ, পবিত্র এবং বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক পরিবেশে। আমি সেখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কারণ, আমরা যদি আমাদের সন্তানদের এই সঠিক শিক্ষা না দেই, তবে তারা রাস্তাঘাটের বাজে আড্ডা কিংবা পৃথিবীর অনিষ্টকারীদের কাছ থেকে ভুল ও বিকৃত পাঠ গ্রহণ করবে—যা হবে চরম আশঙ্কাজনক। আমরা যদি মনে করি যে, সন্তানদের সাথে এসব বিষয়ে কথা না বললেই তারা এগুলো থেকে দূরে থাকবে, তবে তা হবে আমাদের এক বিরাট ভুল ও বিভ্রান্তি। কেননা বয়ঃসন্ধিকালের সহজাত প্রবৃত্তি তাদের মনের ভেতর এই রহস্যগুলো জানার জন্য প্রবল তাগিদ সৃষ্টি করে।

পবিত্র কুরআনের এই ক্ষেত্রটির শব্দশৈলী ও অভিব্যক্তিগুলো যদি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি—যেমন: ‘এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও’ (باشروهن), ‘অথবা তোমরা যদি স্ত্রীদের স্পর্শ করো’ (لامستم النساء), ‘সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রীদের সাথে কামাচারে লিপ্ত হওয়া হালাল করা হয়েছে; তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক’ (هن لباس لكم وانتم لباس لهن), ‘হজ পালনকালে কোনো কামাচার, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ নেই’ (فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج), ‘তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকটবর্তী

« <
/ 351
> »