মন্দের সব শক্তি একজোট হয়ে তাকে আক্রমণ করে এবং যখন সে প্রায় অবচেতনভাবেই পাপাচারের দিকে ধাবিত হতে চায়—ঠিক তখনই তাঁর ঈমান জাগ্রত হয়ে তাঁকে সতর্ক করে দিল:
وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَنْ نَفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ۚ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
“আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, সেই মহিলা তাকে প্রলুব্ধ করল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়ে বলল—‘এসো, কাছে এসো!’ ইউসুফ বলল—‘আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি! তিনি (আল্লাহ অথবা আযীয) আমার প্রভু/মালিক, তিনি আমাকে সম্মানজনক আশ্রয় দিয়েছেন। নিশ্চয়ই যালিমরা সফল হয় না’।” [সূরাহ ইউসুফ: ২৩]
নবীজি (সা.)-এর নির্দেশনার মাঝেও এমন একটি কাহিনী রয়েছে যা মানুষের জৈবিক প্রবৃত্তি এবং ঈমান ও আল্লাহভীতির মধ্যকার দ্বন্দ্বকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সেই কাহিনীর নায়ক কামনার জাহান্নামে প্রায় নিপতিত হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রিয়তমা নারীর একটিমাত্র বাক্য তাঁকে তাঁর রবের কথা মনে করিয়ে দিল। ফলে তিনি নিজের ভালোবাসা এবং অর্থসম্পদ—সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে পিছিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—
তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে তিন ব্যক্তি পথ চলতে চলতে রাত কাটানোর জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নিল। তারা সেখানে প্রবেশ করার পর পাহাড় থেকে একটি বড় পাথর পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বলল, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের সৎ আমলের উসিলায় দু‘আ করা ছাড়া এই পাথর থেকে মুক্তির আর কোনো পথ নেই।’… তাদের মধ্য থেকে একজন বলল:
‘হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল, যাকে আমি পুরুষরা নারীদের যতটুকু ভালোবাসতে পারে তার চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম। আমি তার সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষা করলাম, কিন্তু সে নিজেকে আমার থেকে বাঁচিয়ে রাখল। পরবর্তীতে এক বছর কঠিন দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে সাহায্যের জন্য আমার কাছে এলো। আমি তাকে একশো বিশ দীনার এই শর্তে দিলাম যে, সে নিজেকে আমার হাতে সঁপে দেবে। যখন আমি তাকে কাবু করলাম এবং তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম (অর্থাৎ মিলনের উপক্রম করলাম), তখন সে বলল— “আল্লাহকে ভয় করো! আর অবৈধভাবে এই মোহর (সতীত্ব) নষ্ট করো না!”
এ কথা শুনে আমি পাপাচার থেকে বিরত থাকলাম এবং সে আমার সবচাইতে প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তাকে ছেড়ে চলে এলাম। এমনকি তাকে যে স্বর্ণমুদ্রাগুলো
