দিয়েছিলাম, সেগুলোও ফিরিয়ে নিলাম না।
হে আল্লাহ! আমি যদি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই এই কাজটি করে থাকি, তবে আমাদের ওপর থেকে এই পাথরটি সরিয়ে দিন।’ অতঃপর পাথরটি সরে গেল… [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এই ভূমিকায় যেহেতু আমরা ইউসুফ (আ.) এবং তাঁর প্রতি আযীয-পত্নীর আসক্তির কথা আলোচনা করেছি, তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন। কিছু মুফাসসির অজ্ঞতাবশত নবীদের পবিত্র চরিত্রে এমন কিছু প্রেমঘটিত অপবাদ আরোপ করেছেন—যা মূলত ইসরাঈলী বর্ণনা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের কথার দ্বারা প্রভাবিত।
এমনই একটি অপবাদ হলো—ইউসুফ (আ.) আযীয-পত্নীর সাথে মিলনের সংকল্প করেছিলেন, যেভাবে নারীটি করেছিল। এটি সম্পূর্ণ ভুল। এই যুবকের মনের ভাব যুলাইখার কামনার মতো ছিল না; বরং তা ছিল মানুষের মনের এমন এক ক্ষণিক চিন্তা বা তাড়না যা মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং এর জন্য কোনো জবাবদিহিও করতে হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন—“আমার বান্দা যখন কোনো নেক কাজের সংকল্প করে, তখন তার জন্য একটি সওয়াব লিখে দাও; আর যদি সে কাজটি করে তবে দশ গুণ সওয়াব লেখো। কিন্তু বান্দা যখন কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করে অথচ তা কাজে পরিণত করে না, তখন তার জন্য একটি সওয়াব লেখো; কারণ সে আমার ভয়েই তা পরিত্যাগ করেছে। আর যদি সে মন্দ কাজটি করে ফেলে, তবে কেবল একটি গুনাহই লেখো।” [বুখারী ও মুসলিম]
ইউসুফ (আ.)-এর সংকল্প যে নারীটির সংকল্পের মতো ছিল না, তার বড় প্রমাণ হলো—সেই মহিলাই তাঁকে ফুসলিয়েছিল, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল এবং বলেছিল, ‘এসো!’ অথচ তিনি নিজের মনের সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে তার কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি!’
অনুরূপভাবে, কুরআনের “আমি আমার নফসকে পবিত্র বলছি না” (وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي) আয়াতটির বক্তা হিসেবে অনেকেই ইউসুফ (আ.)-কে চিহ্নিত করেন; যা একটি মারাত্মক ভুল। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল আযীয-পত্নীর স্বীকারোক্তি। সে যখন নিজের অপরাধ কবুল করল, ইউসুফ (আ.) তখনও কারাগারে ছিলেন। আযীয-পত্নীর স্বীকারোক্তি শোনার পরই কেবল রাজা তাঁকে তলব করেছিলেন। পবিত্র কুরআনের বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন: “আযীযের স্ত্রী বলল—‘এখন সত্য প্রকাশিত হয়েছে। আমিই তাকে প্রলুব্ধ করেছিলাম, আর সে অবশ্যই সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। (সে আরও বলল—) আমি আমার নফসকে পবিত্র বলছি না; নিশ্চয়ই মানুষের নফস মন্দ কাজের
