তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

নির্দেশ দিয়ে থাকে…’ রাজা বলল—‘ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর হিসেবে গ্রহণ করব’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৫১-৫৪]

নবীদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের এমন আরও কিছু অপচেষ্টা দেখা যায়। যেমন কিছু মুফাসসির ইসরাঈলী বর্ণনায় প্রভাবিত হয়ে দাউদ (আ.)-এর কাহিনীতে ‘ভেড়া’ (النعجة) শব্দের অর্থ করেছেন ‘নারী’। কুরআনের আয়াতটি হলো:
“আপনার কাছে কি সেই বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা দেয়াল টপকে ইবাদতখানায় ঢুকে পড়েছিল… তারা বলল—‘এই ব্যক্তি আমার ভাই, তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা (ভেড়া) আর আমার আছে মাত্র একটি। সে বলছে—সেটি আমাকে দিয়ে দাও এবং সে তর্কে আমার ওপর প্রবল হয়ে গেছে।’ দাউদ বলল—‘সে তোমার দুম্বাটিকে নিজের দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার দাবি তুলে তোমার ওপর অবিচার করেছে’… দাউদ বুঝতে পারল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করছি। অতঃপর সে তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ল ও তওবা করল।” [সূরাহ সদ: ২১-২৪]

সেই সব মুফাসসিররা এর ব্যাখ্যায় এমন এক জঘন্য গল্প ফেঁদেছেন যে—নাউযুবিল্লাহ—দাউদ (আ.)-এর নিরানব্বইজন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি নাকি তাঁর সেনাপতির স্ত্রীকে পছন্দ করে নিজের করে নিয়েছিলেন! এটি এমন এক কুরুচিপূর্ণ ও অপরাধমূলক কাজ যা কোনো সাধারণ অপরাধীর পক্ষেও কল্পনা করা কঠিন, আর তিনি তো ছিলেন আল্লাহর এক নিষ্পাপ নবী!

বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা হলো—দাউদ (আ.) কেন ক্ষমা চেয়েছিলেন তা নিয়ে মুফাসসিরদের ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ বলেছেন—তিনি ইবাদতে এত মগ্ন থাকতেন যে জনগণের সমস্যার কথা শোনার সময় পেতেন না, তাই তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। আবার কেউ বলেছেন—তিনি এক পক্ষের কথা শুনেই দ্রুত রায় দিয়ে ফেলেছিলেন, অন্য পক্ষের কথা শোনার অপেক্ষা করেননি; তাই তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন।

এই সব বর্ণনাকারীরা কেবল ইউসুফ বা দাউদ (আ.)-কেই লক্ষ্যবস্তু বানায়নি; বরং অসতর্কতা এবং দুর্বল ও জাল হাদীসের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চরিত্রেও অপবাদ দিয়েছে। তারা প্রচার করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নাকি তাঁর ফুফাতো বোন যয়নাব (রা.)-এর প্রেমে পড়েছিলেন—যাঁর সাথে যায়িদ (রা.)-এর বিয়ে স্বয়ং নবীজিই দিয়েছিলেন। তাদের দাবি—বিয়ের পর একদিন যয়নাবকে দেখে নাকি নবীজির মনে কামনার উদ্রেক হয় এবং তিনি বলে ওঠেন, ‘সুবহানাল্লাহ! অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ কতই না পবিত্র!’ যয়নাব এটি যায়িদকে জানালে যায়িদ তাঁকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি কুরআনের আয়াত

« <
/ 351
> »