(পাশ ফিরে) শুয়ে স্ত্রীর সাথে মিলন করত। অন্যদিকে মক্কার কুরাইশরা (মুহাজিররা) বিভিন্ন ভঙ্গিতে—সামনে থেকে, পেছন থেকে কিংবা চিৎ করে শুইয়ে আনন্দ লাভ করত। যখন একজন মুহাজির সাহাবী জনৈক আনসারী নারীকে বিবাহ করলেন এবং কুরাইশদের প্রথায় মিলিত হতে চাইলেন, তখন স্ত্রী তা অস্বীকার করলেন। বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তা পৌঁছায় এবং তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে: “সামনে থেকে হোক বা পেছন থেকে হোক, যদি তা যোনিপথে (সন্তান জন্মদানের স্থানে) হয়, তবে তাতে কোনো বাধা নেই।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
ভ্রান্ত ধারণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি
সেকালে ইহুদীরা একটি কুসংস্কার ছড়াত যে— যদি কোনো পুরুষ পেছন দিক থেকে (যোনিপথে) মিলন করে, তবে সন্তান ‘টেরা’ হবে! ইসলাম এই অলীক ধারণা ভেঙে দিয়েছে। উম্মে সালামাহ (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসেও এসেছে যে, উপুড় হয়ে বা উবু হয়ে মিলন করায় কোনো বাধা নেই, যদি তা নির্দিষ্ট পথেই সম্পন্ন হয়।
ইমাম মাযেরী এবং কাজী আয়াজ (রহ.)-এর মতে, এর বিভিন্ন রূপ হতে পারে:
১. স্ত্রী দাঁড়ানো অবস্থায় রুকুর মতো নুয়ে থাকবে।
২. স্ত্রী হাঁটু গেড়ে উপুড় হয়ে থাকবে।
আবু মনসুর সায়ালিবী তাঁর ‘ফিকহুল লুগাহ’ গ্রন্থে লিখেছেন— নারীকে পিঠের ওপর ভর দিয়ে চিৎ করে শোয়ানোকে ‘শারহ’ বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে এটিই মিলনের সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ও কম ক্ষতিকর পদ্ধতি। তবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিলনের সময় ছাড়া অন্য সাধারণ সময়ে নারীদের এভাবে (চিৎ হয়ে) ঘুমাতে নিষেধ করতেন, কারণ এটি একটি কামোদ্দীপক ভঙ্গি যা শয়তানকে প্রলুব্ধ করতে পারে।
পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা যে কোন অবস্থানটি তাদের বেশি আনন্দ দেয়। মিলনের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা এক ধরনের নতুনত্ব ও আনন্দের খোরাক জোগায়। তবে এক্ষেত্রে স্বামীর অত্যন্ত সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
একজন চিকিৎসক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন যে, অনেক নারী অভিযোগ করেন— স্বামীর শরীরের ভারে তাঁরা পিষ্ট হয়ে যান, এমনকি দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়! এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মিলনের সময় স্বামী যদি তাঁর শরীরের পূর্ণ ভার স্ত্রীর ওপর না দিয়ে দুই কনুইয়ের ওপর রাখে, তবে এই অস্বস্তি দূর হয়। বিশেষ করে পুরুষের ওজন যদি অত্যধিক
