তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন জয়নাব (রা.)-এর সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি ওলীমা হিসেবে সাহাবীদের পেট ভরে রুটি ও গোশত খাওয়ালেন। পরদিন সকালে তিনি ‘উম্মাহাতুল মুমিনীন’দের (অন্যান্য স্ত্রীদের) ঘরে ঘরে গিয়ে তাঁদের সালাম দিলেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করলেন; তাঁরাও নবী (সা.)-কে সালাম দিলেন এবং তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করলেন। [সুনানুন নাসাঈ; সহীহ]
সুতরাং বাসর রাতের পরদিন সকালে স্বামীর উচিত ঘরে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সালাম দেওয়া এবং তাঁদের সাথে কুশল বিনিময় ও দোয়া করা। আত্মীয়দেরও উচিত দম্পতির জন্য আন্তরিকভাবে বরকতের দোয়া করা। এটিই ইসলামের সৌন্দর্য এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার সঠিক পথ।
স্বামী কীভাবে স্ত্রীর নিকট আসবে: মিলনের পদ্ধতি ও কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা
ইসলামী শরীয়াহ দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তগুলোকে কেবল বৈধই করেনি, বরং সেগুলোকে পারস্পরিক আনন্দ ও প্রশান্তির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা স্বামী-স্ত্রীর এই নিবিড় সম্পর্ককে অত্যন্ত চমৎকার উপমায় ভূষিত করেছেন।
পোশাক ও প্রশান্তির রূপক
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
“সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করা হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ১৮৭]
ইমাম বায়যাভী (রহ.) তাঁর তাফসীরে বলেন, এখানে ‘রাফাস’ শব্দটি সহবাসের একটি মার্জিত রূপক। মিলন কেবল একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি কামোদ্দীপক কথোপকথন ও গভীর ঘনিষ্ঠতার সমন্বয়। ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন— স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য ‘লেবাস’ বা পোশাকস্বরূপ, কারণ তারা একে অপরের সান্নিধ্যে পরম প্রশান্তি লাভ করে। আরবরা প্রাচীনকাল থেকেই স্ত্রীকে ‘লেবাস’ বা ‘ইযার’ (তহবন্দ) বলে সম্বোধন করত। যেমন জনৈক কবি গেয়েছেন:
“শয্যাসঙ্গী যখন আদরে তার ঘাড়টি বাঁকিয়ে দেয়,
সেও তখন নুয়ে পড়ে তার ওপর পোশাকের আবরণ হয়ে রয়।”
ফকীহগণের মতে, পোশাক যেমন শরীরকে আবৃত করে রাখে, স্বামী-স্ত্রীও মিলনের সময় সেভাবে একে অপরের সাথে মিশে থাকে। এখান থেকেই অনেকে মনে করেন যে, মিলনের স্বাভাবিক নিয়ম হলো স্ত্রীকে নিচে রাখা; তবে এটিই একমাত্র নিয়ম নয়।
শস্যক্ষেত্র ও মিলনের বৈচিত্র্য
আল্লাহ তা‘আলা আরও ইরশাদ করেছেন:
“তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৩]
এই আয়াতের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত শিক্ষণীয়। মদীনার আনসাররা ইহুদীদের অনুকরণে কেবল এক কাতে

« <
/ 351
> »