তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করে—যা সুস্থ ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপন্থী। ইসলাম এই প্রক্রিয়াকে নেক নিয়তের মাধ্যমে সওয়াবের কাজে পরিণত করেছে।

দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা ফাঁাস করার কঠোর নিষেধাজ্ঞা
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তের কথা অন্য কারো কাছে প্রকাশ করা আমানতের খেয়ানত এবং চরম নির্লজ্জতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা নেককার নারীদের গুণাবলি বর্ণনা করে বলেছেন:
“সুতরাং নেককার নারীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহর হেফাজতে তারা (স্বামীদের) অনুপস্থিতিতে (তাদের হক ও আমানত) রক্ষা করে।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৪]
মুফাসসিরগণের মতে, নেককার নারীরা তাদের ও তাদের স্বামীদের মাঝে ঘটে যাওয়া অতি গোপন বিষয়গুলো পরম মমতায় রক্ষা করে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ হারাম।
আসমা বিনতু ইয়াযিদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে অনেক পুরুষ ও নারী বসা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের সতর্ক করে বললেন:
“সম্ভবত কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে যা করে তা অন্যের কাছে বলে বেড়ায় এবং কোনো নারী তার স্বামীর সাথে যা করে তা অন্যের কাছে প্রকাশ করে দেয়!”
একথা শুনে উপস্থিত সবাই লজ্জায় ও ভয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং কোনো উত্তর দিল না। তখন আসমা (রা.) সাহসের সাথে বললেন: “হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! নারীরাও এমনটি করে এবং পুরুষরাও এমনটি করে থাকে।” তখন রাসূল (সা.) অত্যন্ত কঠোর উপমা দিয়ে বললেন: “তোমরা এমনটি করো না। এটি তো ঠিক সেই শয়তানের মতো, যে পথের মাঝে কোনো নারী শয়তানের দেখা পেল এবং মানুষের সামনেই তার সাথে লিপ্ত হলো।” [মুসনাদ আহমাদ; হাসান]
সতর্কবার্তা: অনেক পুরুষের কু-অভ্যাস আছে যে তারা বন্ধুদের আড্ডায় নিজের স্ত্রীর শারীরিক সৌন্দর্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেয়। এর ফলে বন্ধুদের মনে সেই নারীর প্রতি আসক্তি বা কুবুদ্ধি তৈরি হতে পারে এবং তারা তাকে পাওয়ার জন্য শয়তানি প্রতারণার জাল বুনতে পারে। এমন হঠকারিতার ফলে অতীতে অনেক ঘর ভেঙেছে এবং শোচনীয় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই মুমিন পুরুষের কর্তব্য হলো নিজের স্ত্রীর মর্যাদা রক্ষা করা।

মিলনের সুন্নাহসম্মত শিষ্টাচার: ইমাম ইবনুল হাজ (রহ.)-এর বিশ্লেষণ
বিখ্যাত পণ্ডিত ইমাম ইবনুল হাজ (রহ.) তাঁর ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে এই বিষয়ে সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত কিছু দিক তুলে ধরেছেন:
১. একান্ত পরিবেশ: মিলনের সময় সেই কক্ষে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকবে না।

« <
/ 351
> »