তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

দাসীর রুচিবোধ আমাদের আধুনিক নারীদের জন্য শিক্ষা— যেখানে অলঙ্কারের মোহ পুরুষকে আর্থিক সংকটে ফেলে এবং সমাজে নৈতিক স্খলন ঘটায়।
৮. মান ভাঙানোর যাদু
এক ব্যক্তি তার দাসীর ওপর রাগ করে মুখ ফিরিয়ে নিলে দাসী গর্বের সাথে কবিতা আবৃত্তি করল:
“সে বিমুখ থাকলে কী হবে? প্রেমের যাদু যখন চলে,
পা টলমল করবে তার, পড়বে লুটিয়ে আমার কোলে!”
মালিক তার এই আত্মবিশ্বাস ও কথা শুনে আর রাগ ধরে রাখতে পারলেন না, দ্রুত মান ভেঙে তাকে আলিঙ্গন করলেন।
৯. শিষ্টাচার ও আদব
খলীফা মুতাদিদের এক দাসী খলীফার ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে অত্যন্ত আদবের সাথে সরে দাঁড়াল। সে বলেছিল: “আমাদের শেখানো হয়েছে— কেউ ঘুমিয়ে থাকলে তার সামনে বসে থাকা যাবে না, আবার কেউ বসে থাকলে তার সামনে ঘুমানো যাবে না!” খলীফা তার এই উচ্চমার্গের শিষ্টাচারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন।
মিলনের শিষ্টাচার ও দাম্পত্য গোপনীয়তা রক্ষা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা মানুষের জীবনের অতি ব্যক্তিগত ও প্রাকৃতিক বিষয়গুলোকেও ইবাদত ও সৌন্দর্যের ফ্রেমে আবদ্ধ করেছে। দাম্পত্য মিলন কেবল জৈবিক তাড়না মেটানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত এবং বংশধারা রক্ষার পবিত্র আমানত।
মিলনের প্রাক্কালে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি ও বরকতের দু‘আ
দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর স্মরণ মুমিনের বৈশিষ্ট্য। স্ত্রীর সাথে মিলনের শুভ মুহূর্তেও নবী (সা.) আমাদের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দু‘আ শিক্ষা দিয়েছেন। স্বামী যখন স্ত্রীর নিকটবর্তী হবে, তখন তার এই দু‘আটি পড়া উচিত:
“বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শাইত্বানা মা রাযাক্বতানা।”
অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি; হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন, তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।” [সহীহ বুখারী]
নবী (সা.) এই দু‘আটির ফলাফল বর্ণনা করে বলেছেন— “অতঃপর যদি তাদের মাঝে কোনো সন্তান দেওয়ার ফয়সালা করা হয়, তবে শয়তান কখনোই সেই সন্তানের ক্ষতি করতে পারবে না।” [সহীহ বুখারী]
হিকমত ও তাৎপর্য: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই নির্দেশনা কতই না চমৎকার! এটি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, যৌন মিলনের শুরুতেই আল্লাহর নাম নিতে হয়। এর মাধ্যমে এই কর্মের মহৎ উদ্দেশ্য ও পবিত্রতা ঘোষিত হয়। এটি অন্যান্য কিছু ধর্মের ভ্রান্ত ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে নোংরা বা অপবিত্র মনে

« <
/ 351
> »