সামনে এক থালা ফুল ছিল। খলীফা পাশের এক বিদুষী দাসীকে ফুল নিয়ে কিছু বলতে বললে মুফাদ্দাল আগে বললেন— “এ যেন প্রেমিকের প্রিয়তমর গাল, যাতে সে চুম্বন এঁকে দিয়েছে।” দাসীটি চতুরতার সাথে উত্তর দিল: “এ যেন আমার গালের রঙ, যখন খলীফার হাত আমাকে কোনো প্রিয় কাজের (মিলন) দিকে টেনে নেয়!” খলীফা এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন যে, মুফাদ্দালকে পর্দা নামিয়ে বিদায় হতে বললেন।
৪. খুঁত যখন অলঙ্কার
বিখ্যাত ভাষাবিদ আসমায়ী বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক দাসী বিক্রি করতে আনলেন যার নাক ছিল কিছুটা খাঁদা। খলীফা হারুনুর রশীদ খুঁতটি দেখে তাকে কিনতে চাইলেন না। দাসীটি তখন অনুমতি নিয়ে বলল:
“হরিণের সৌন্দর্য কি কম পড়ে কেবল তার খাঁদা নাকের তরে?
চাঁদও তো কলঙ্ক নিয়েই রাতের আকাশে আলো ছড়িয়ে পড়ে!”
তার এই উপস্থিত বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে খলীফা তাকে কিনে নিলেন এবং সে তাঁর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী হয়ে উঠল।
৫. খায়যুরানের ত্বরিত উত্তর
খায়যুরানকে যখন খলীফা মাহদীর সামনে আনা হলো, খলীফা তাঁর সরু পায়ের গোড়ালি দেখে টিপ্পনী কাটলেন। খায়যুরান লাজুকভাবে কিন্তু বুদ্ধির সাথে উত্তর দিল: “হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে কিন্তু আপনি পা দুটি দেখবেন না!” মাহদী হেসে উঠলেন এবং তাকে গ্রহণ করলেন। পরবর্তীতে এই মহীয়সী নারীর গর্ভেই জন্ম নিয়েছিলেন ইতিহাসের দুই মহান শাসক— মুসা ও হারুন।
৬. প্রেমের দীর্ঘায়ু লাভের কৌশল
খলীফা মাহদীর এক প্রিয়তমা দাসী মাঝে মাঝে তাঁর থেকে দূরে সরে থাকত। খলীফা কারণ জানতে চাইলে সে বলল: “আমি ভয় পাই, প্রতিদিন কাছে থাকলে আপনি হয়তো আমাকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। আমি নিজেকে কিছুটা দূরে রাখি যেন আমাদের প্রেমের তৃষ্ণা কখনো না মেটে এবং এটি দীর্ঘায়ু হয়।” মাহদী এই বিজ্ঞোচিত জওয়াবে মুগ্ধ হয়ে তাকে আরও বেশি ভালোবাসতে শুরু করলেন।
৭. চতুর ও রুচিবান আলীর দাসী
আলী ইবনুল জাহামের এক দাসীর রসবোধ ছিল প্রখর। মালিক তাকে ‘অকুমারী’ বলে সন্দেহ করলে সে উত্তর দিল— “ওয়াসিক্ব বিল্লাহর যুগে তো বিজয়ের (উন্মুক্ত হওয়া) জোয়ার এসেছিল!” সূর্যগ্রহণ দেখে সে বলেছিল— “সূর্য আমার রূপ দেখে লজ্জা পেয়ে নেকাব পরেছে।” এমনকি সে অলঙ্কার পরতে ঘৃণা করত এবং বলত: “অলঙ্কার যেমন খুঁত ঢেকে রাখে, তেমনি আসল সৌন্দর্যকেও আড়াল করে দেয়।” এই
