যে নারী দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করতে চায়। ‘তাফাল্লুজ’ হলো উখু বা ঘষার যন্ত্র দিয়ে স্বাভাবিক ও লেগে থাকা দাঁতগুলোকে ঘষে মাঝে ফাঁক করা।
৪. ওয়াস্বিলাহ: যে নারী নিজের চুলের সাথে অন্য কোনো কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক চুল জোড়া দেয়—যা বর্তমানে ‘উইগ’ বা ‘হেয়ার এক্সটেনশন’ ফ্যাশন হিসেবে প্রচলিত।
বিজাতীয় নারীদের অনুকরণে চুল কাটা ও বিন্যাস
মুসলিম নারীর সৌন্দর্য হবে তার স্বকীয়তা ও শালীনতার মাঝে। বিজাতীয় বা কাফির নারীদের অনুকরণে চুল কাটা বা পুরুষালী বেশ ধারণ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন সেই সব পুরুষদের যারা নারীর বেশ ধরে এবং সেই সব নারীদের যারা পুরুষের বেশ ধরে।” [সহীহ বুখারী]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে: “যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সুনান আবী দাউদ]
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কোনো মুসলিম নারীর জন্য পুরুষদের মতো বা কাফির নারীদের অনুকরণে চুল ছোট করা বা কামানো জায়েজ নয়। তবে যদি অনুকরণের উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল প্রয়োজনের তাগিদে চুল সামান্য ছোট করা হয়, তবে তা হারাম নয়। কারণ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.)-এর সহধর্মিণীগণ তাঁদের মাথার চুল সামান্য ছোট করে ‘ওয়াফরাহ’ (কানের লতি পর্যন্ত ঝুলে থাকা চুল) সদৃশ করে রাখতেন।
তবে মনে রাখতে হবে, চুল পোড়ানো বা বিশেষ কায়দায় চুল বাঁধাই (Hair Styling) যদি বিজাতীয় নারীদের অনুকরণে হয়, তবে তা অবশ্যই হারামের অন্তর্ভুক্ত হবে। একজন মুমিন নারীর ভূষণ হবে তাঁর সহজ-সরল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যা তাঁকে আল্লাহর অভিশাপ থেকে মুক্ত রেখে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করবে।
স্বর্ণের আংটির নিষেধাজ্ঞা
ইসলামী শরীয়াহ পুরুষদের জন্য স্বর্ণ পরিধান করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। এটি কেবল একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং পরকালীন শাস্তির কঠোর হুঁশিয়ারি। হাদীস শরীফে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখতে পেলেন। তিনি সেটি তাঁর হাত থেকে খুলে ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন:
“তোমাদের কেউ কি আগুনের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে নিয়ে রাখতে পছন্দ করবে?!”
রাসূল (সা.) চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হলো— ‘তোমার আংটিটি তুলে নাও এবং অন্য কাজে লাগাও (বিক্রি করো)।’ সে বলল: ‘না, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সা.) যা ছুড়ে ফেলেছেন আমি তা কখনো
