তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখে। নবী (সা.) একদল সাহাবীকে সফর থেকে ফেরার সময় পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর অবয়ব বজায় রাখার নসিহত করে বলেছিলেন:
“তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে ফিরে যাচ্ছ; অতএব তোমাদের বাহনগুলো ঠিকঠাক করো এবং তোমাদের পোশাক-আশাক পরিপাটি করো—যেন মানুষের মাঝে তোমাদের দেখে ‘তিল’ বা সুন্দরের চিহ্নের মতো মনে হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো নোংরামি বা কদর্যতা পছন্দ করেন না।” [সুনান আবী দাউদ; এর সনদ সহীহ]
ভ্রু উপড়ানো ও কৃত্রিম চুল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
ইসলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো প্রকার পরিবর্তন আনাকে কঠোরভাবে নিষেধ করে। বিশেষ করে নারীদের সৌন্দর্যের নামে যেসব বিকৃতি বর্তমানে সমাজে প্রচলিত, সে সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
অভিশপ্ত কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চা
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন সেই সব নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে, যারা উল্কি করায়, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে, যারা ভ্রু উপড়াতে সাহায্য করে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে; যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে:
“আল্লাহর রাসূল (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন সেই নারীকে যে নিজের চুলে অন্য চুল জোড়া দেয় এবং যে নারী অন্য চুলে নিজের চুল জোড়া দেওয়ায় সাহায্য করে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
শব্দগত ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
উল্লিখিত হাদীসসমূহে যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঠিক মর্মার্থ জানা প্রয়োজন:
১. ওয়াশিমা (উল্কি অঙ্কনকারী): সুঁই বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে চামড়ায় ছিদ্র করে রক্ত বের করা এবং সেই স্থানে সুরমা বা নীল জাতীয় রং দিয়ে পূর্ণ করা যাতে স্থানটি স্থায়ীভাবে নীল বা কালো হয়ে যায়। বর্তমানে একে ‘ট্যাটু’ বলা হয়। ‘মুস্তাওশিমা’ হলো সেই নারী, যে নিজের শরীরে এমন উল্কি করায়।
২. নামিস্বাহ ও মুতানাম্মিস্বাহ: ‘নামস্ব’ হলো চিমটা বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে মুখমণ্ডলের পশম তুলে ফেলা। যে নারী অন্যের ভ্রু উপড়ে দেয় তাকে ‘নামিস্বাহ’ এবং যে নিজের ভ্রু উপড়ায় তাকে ‘মুতানাম্মিস্বাহ’ বলা হয়। স্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব এবং চেহারায় দ্রুত বলিরেখা পড়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্পষ্ট। উল্লেখ্য যে, মুখমণ্ডল ছাড়াও শরীরের অন্য অংশের পশম উপড়ানো নারীদের জন্য নিষিদ্ধ।
৩. মুত ফাল্লিজাহ:

« <
/ 351
> »