দেয়—ঠিক যেমন ষাঁড়ের ডাকে গাভী বা সাপের বাঁশিতে সাপের প্রতিক্রিয়া হয়। এমনকি ‘জাওয়ামিউল লাযযাহ’ কিতাবের লেখক উল্লেখ করেছেন যে—লুত (আ.)-এর কওমের লোকেরা বাঁশি বাজিয়ে যুবকদের ফাঁদে ফেলত।
আমি নিজে দেখেছি বাদ্যযন্ত্রের সুরে মেয়েরা আকৃষ্ট হয়ে বনের গভীরে ফাসেক যুবকদের পেছনে ছুটে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা যে পশ্চিমাদের অনুকরণ করছি, তারা এখন এই যৌন উদ্দীপক গানে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা এখন কুরুচিপূর্ণ গানের বদলে ‘পরিবার, মা আর শৈশব’ নিয়ে গাওয়া গানগুলো বেশি পছন্দ করছে। কারণ তারা পারিবারিক সুখ হারিয়ে এখন সেটির জন্য হাহাকার করছে।
স্ত্রীর জন্য সাজুন এবং তাকেও সাজতে দিন
পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের একে অপরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। আমাদের সমাজে অনেক সময় মনে করা হয় সাজসজ্জা কেবল নারীর কাজ, অথচ ইসলাম পুরুষকেও তার স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
“নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি ন্যায়সংগতভাবে তাদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৮]
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ থেকেও আমরা এই শিক্ষা পাই। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: নবী (সা.) ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কী কাজ করতেন? তিনি বললেন: “মিসওয়াক করতেন।” সম্ভবত নবী (সা.) এটি করতেন যেন তাঁর স্ত্রীদের চুম্বনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানাতে পারেন এবং মুখ থেকে কোনো দুর্গন্ধ না আসে!
একটি আছারে বর্ণিত হয়েছে: “তোমরা তোমাদের পোশাক ধৌত করো, চুল বিন্যস্ত করো, মিসওয়াক করো এবং সুসজ্জিত ও পরিচ্ছন্ন থাকো। কারণ বনী ইসরাঈলরা এমনটি করত না বলেই তাদের নারীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল!”
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুযোগ্য ছাত্র ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের মর্মার্থ খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি বলতেন:
“আমি আমার স্ত্রীর জন্য ঠিক তেমনই সাজসজ্জা করি, যেমন সে আমার জন্য সাজে। আমি আমার ওপর স্ত্রীর যে অধিকার রয়েছে তা পুরোপুরি আদায় না করে থাকতে পছন্দ করি না; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন— ‘নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি ন্যায়সংগতভাবে তাদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর’।”
ইমাম কুরতুবী (রহ.) তাঁর তাফসীরে এই উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন: পুরুষকে এমন মার্জিত পোশাকে ও সাজে থাকতে হবে যা তার স্ত্রীকে আনন্দ দেয় এবং তাকে পরপুরুষ থেকে বিমুখ রাখে। তিনি আরও বলেন: “সুগন্ধি মাখা, মিসওয়াক
