তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করা, দাঁত খিলাল করা, ময়লা পরিষ্কার করা, অতিরিক্ত চুল কাটা, পরিচ্ছন্ন হওয়া এবং নখ কাটা—এগুলো স্বামীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।” অতঃপর তিনি বলেন: স্ত্রীর চাহিদার সময় স্বামী যেন তার পাশে থাকে এবং তাকে এমনভাবে তুষ্ট রাখে যেন সে পরপুরুষের দিকে না তাকায়। যদি স্বামী বুঝতে পারে যে সে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে অক্ষম, তবে তার উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা এমন কিছু করা যা তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে; যেন সে স্ত্রীকে পবিত্র রাখতে পারে।
খলীফা উমর (রা.)-এর আমলের একটি ঘটনা এক্ষেত্রে শিক্ষণীয়। তাঁর কাছে একবার এক দম্পতি এল। স্বামীর চুল ছিল উস্কোখুস্কো এবং গায়ের রং ছিল ধুলোবালিমাখা মলিন। স্ত্রী খলীফাকে লক্ষ্য করে বিচ্ছেদের আরজি জানিয়ে বললেন: “হে আমীরুল মুমিনীন! এই লোকটির সাথে আমি আর সংসার করতে পারব না (অর্থাৎ আমাকে ওর থেকে মুক্তি দিন)।” উমর (রা.) লোকটির প্রতি স্ত্রীর অনীহা বুঝতে পারলেন। তিনি লোকটিকে গোসল করার, চুল কাটার এবং নখ কাটার নির্দেশ দিলেন। লোকটি পরিপাটি হয়ে ফিরে এলে খলীফা তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে বললেন। স্ত্রী প্রথমে তাকে চিনতে না পেরে হকচকিয়ে গেলেন, পরে যখন চিনতে পারলেন তখন হাসিমুখে তাকে গ্রহণ করলেন এবং বিচ্ছেদের দাবি তুলে নিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: “তোমরাও তোমাদের স্ত্রীদের জন্য এভাবেই সাজগোজ করো। আল্লাহর কসম! তোমরা যেমন চাও তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য সেজেগুজে থাকুক, তারাও তেমনটিই কামনা করে।”
‘তুহফাতুল আরূস’ গ্রন্থে এসেছে: “নারীরা হলো পুরুষের আনন্দের সাথী; অতএব পুরুষ যেন তার এই সাথীকে যথাসাধ্য সাজিয়ে রাখে!” স্বামীর সাজসজ্জা স্ত্রীর কামভাব জাগ্রত করে, চোখের প্রশান্তি দেয় এবং স্ত্রীর সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। এতে পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
আবূ ফারাজ ‘কিতাবুন নিসা’-তে লিখেছেন: একজন নারী তখনই তার স্বামীর কাছে সমাদৃত হয় যখন সে সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকে এবং নিজেকে অলঙ্কার ও সুন্দর পোশাকে সজ্জিত রাখে। তবে সে যেন খেয়াল রাখে—স্বামীর দৃষ্টি যেন কখনও তার শরীরের কোনো ময়লা, দুর্গন্ধ বা অপ্রীতিকর কিছুর ওপর না পড়ে। স্ত্রী যদি এই অযত্ন করে, তবে তার ক্ষতির ঝুঁকি তারই; কারণ অবহেলে দেখলে স্বামী অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। উল্লেখ্য যে, স্ত্রীর উচিত কেবল তার স্বামীর জন্যই সাজা; রাস্তাঘাটে বা অনুষ্ঠানে অন্য পুরুষদের দেখানোর জন্য

« <
/ 351
> »