ও মমতা প্রদর্শন করা, যা প্রকারান্তরে স্বামীর হৃদয় জয় করার একমাত্র বৈধ ও কার্যকর পথ।
জামাতার প্রতি মুরব্বিদের উপদেশ
দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় করতে কেবল কন্যার প্রতি উপদেশই যথেষ্ট নয়, বরং জামাতা এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পারস্পরিক সহমর্মিতারও বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। ইসলামী ইতিহাসে এর বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।
আলী (রা.) যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফাতেমা (রা.)-এর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন নবী (সা.) বিয়ের সম্মতি দিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
“সে তোমারই হলো, তবে শর্ত হলো—তার সাথে তোমাকে উত্তম আচরণ করতে হবে।” [আল-মুস্তাদরাক]
জামাতার প্রতি একজন অভিভাবকের মনের আকুতি ও প্রত্যাশা কত গভীর হতে পারে, তা উসমান ইবনে আনবাসার বিয়ের ঘটনায় ফুটে ওঠে। তিনি যখন তাঁর চাচা উতবাহর কাছে তাঁর মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন চাচা তাকে পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে এক আবেগঘন নসিহত করেছিলেন:
“নিকটাত্মীয় আজ এক প্রিয়তমার প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমি তাকে ফিরিয়ে দিতে পারি না, আবার তার আবদার পূরণ না করেও পারি না। আমি তোমাদের বিয়ে দিচ্ছি। তুমি আমার কাছে আমার মেয়ের চেয়েও প্রিয়, আবার মেয়েটি আমার কলিজার বেশি কাছের। তাই তাকে সম্মান কোরো, তবেই আমার মুখে তোমার প্রশংসা ঝরবে। তাকে লজ্জিত কোরো না, তবে আমার কাছে তোমার মর্যাদা কমে যাবে। নিকটাত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও আমি তোমাকে আজ আরও কাছে টেনে নিলাম, তাই আমার হৃদয়কে তোমার হৃদয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না।”
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর নসিহত ও পারস্পরিক সমঝোতা
সংসার জীবনে মান-অভিমান হওয়া স্বাভাবিক, তবে তা নিরসনের পথ স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বের করতে হয়। প্রখ্যাত সাহাবী আবূ দারদা (রা.) তাঁর স্ত্রীকে দাম্পত্যের এক মহাসূত্র শিখিয়ে দিয়ে বলেছিলেন:
“যখন দেখবে আমি রেগে আছি, তখন তুমি আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করো (একটু নরম থেকো)। আর আমি যদি দেখি তুমি রেগে আছো, তবে আমি তোমাকে শান্ত করব। অন্যথায় আমাদের একসাথে পথ চলা সম্ভব হবে না।”
দাম্পত্যের এই গভীর দর্শনকে কবি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তাঁর কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন—
“তুমি আমার দোষগুলো ক্ষমা করে দিয়ো, তবেই ভালোবাসা টিকে থাকবে,
যখন আমি ক্রুদ্ধ হব, তখন তুমি কটু কথা বলো না।
দফ বা বাদ্যযন্ত্রের মতো অহেতুক আমাকে আঘাত করো না,
কারণ তুমি জানো না কখন
