মন বিমুখ হয়ে যায়।
অতিরিক্ত অভিযোগ করো না, কারণ তাতে শক্তি ক্ষয় হয়,
আমার মন তখন তোমাকে অপছন্দ করবে, আর মানুষের মন বড় পরিবর্তনশীল।
আমি দেখেছি হৃদয়ে ভালোবাসা আর তিক্ততা যখন একত্রে জমা হয়,
তখন ভালোবাসা বেশিক্ষণ টিকে থাকে না, বরং পালিয়ে যায়।”
ভালোবাসা আর ঘৃণা এক পাত্রে দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে না। তাই যখন একজনের মনে তিক্ততা বা রাগ জন্মে, অন্যজনকে তখন ধৈর্য ও ক্ষমার মাধ্যমে সেই আগুনের শিখাকে নির্বাপিত করতে হয়। এটিই হলো একটি সফল ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের মূল রহস্য।
গান ও দফ বাজানো
ইসলামী শরীয়াহ আনন্দ প্রকাশের একটি পরিমিত ও শালীন সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ প্রকাশের জন্য ‘দফ’ (এক মুখ খোলা বাদ্যযন্ত্র) বাজানো এবং বীরত্বগাঁথামূলক বা শালীন গান গাওয়ার অনুমতি রয়েছে। রুবাই বিনতে মুআউবিয (রা.) বর্ণনা করেন:
“আমার বিয়ের পর বাসর রাতে নবী (সা.) আমার ঘরে এলেন এবং আমার বিছানায় বসলেন—ঠিক যেভাবে আপনি (বর্ণনাকারী) আমার সামনে বসে আছেন। তখন আমাদের ছোট ছোট মেয়েরা দফ বাজাতে লাগল এবং বদর যুদ্ধে শহীদ হওয়া আমাদের পিতাদের বীরত্বগাঁথা গাইতে লাগল। হঠাৎ তাদের একজন গেয়ে উঠল: ‘আমাদের মাঝে এমন এক নবী আছেন, যিনি জানেন আগামীকাল কী ঘটবে’। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘এটি বাদ দাও! আগে যা বলছিলে তা-ই বলো’।” [সহীহ বুখারী, বায়হাকী ও হাকেম]
অন্য একটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ছাড়া আর কেউ জানে না আগামীকাল কী ঘটবে!” [ত্বহাবী ও বায়হাকী]। কারণ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাঁর নবীকে (সা.) উদ্দেশ্য করে বলেছেন: “বলো, আমি গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানি না!” [সূরাহ আল-আনআম: ৫০]
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি জনৈক আনসারী সাহাবীর বিয়ের কনেকে সাজিয়ে বরের ঘরে পাঠিয়ে দিলেন। তখন আল্লাহর নবী (সা.) বললেন: “হে আয়েশা! তোমাদের সাথে কি কোনো আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা ছিল না? কারণ আনসাররা আমোদ-প্রমোদ পছন্দ করে।” [সহীহ বুখারী] নবী (সা.) আরও বলেছেন:
“হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হলো—(বিয়ের অনুষ্ঠানে) দফ বাজানো ও উচ্চস্বর (গান)।” [সুনানুন নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ]
আমের বিন সা‘দ থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: আমি ক্বারযাহ বিন কাব এবং আবূ মাসঊদ (রা.)-এর কাছে গেলাম (সেখানে তৃতীয়
