অনেক কুমারী ও সম্পদশালী যুবতী ছিলেন যাদের কোনো সন্তানের বোঝা ছিল না। কিন্তু নবী (সা.) তাঁকে বিয়ে করেছিলেন সেই মহান মানবিক কারণে—যে কারণে তিনি যায়নাব বিনতে খুযাইমাহকে বিয়ে করেছিলেন; যিনি যুবতী ছিলেন না, সুন্দরীও ছিলেন না এবং যাঁর স্বামী বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। এই মহানুভবতাই মুসলিমদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভক্তি আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তাঁরা তাঁকে কেবল আল্লাহর নবী হিসেবেই নয়, বরং এক পরম মমতাময়ী পিতা হিসেবেও দেখতে পান—যিনি প্রতিটি মিসকিন, বঞ্চিত, দুর্বল ও অনাথের আশ্রয়স্থল; যিনি আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া সন্তানদের ছায়াদাতা এক পিতা।” [পৃষ্ঠা: ৩১২-৩১৩]
নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কোনো নারী যদি কোনো নেককার ও যোগ্য পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেন, তবে প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংকোচ করার কিছু নেই। তবে এই প্রস্তাবের ধরন ও পদ্ধতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে নবী (সা.)-এর জন্য একটি বিশেষ বিধান দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
“…এবং কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে নিবেদন করে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চান; এটি বিশেষভাবে আপনারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়।” [সূরাহ আল-আহযাব: ৫০]
ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন— “এটি বিশেষভাবে আপনারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়” এর অর্থ হলো: কোনো মুমিন নারীর জন্য এটি জায়জ নয় যে, সে অভিভাবক, মোহরানা এবং সাক্ষী ছাড়া নিজেকে কোনো পুরুষের কাছে নিবেদন করবে (অর্থাৎ সরাসরি বিয়ে করবে)। অর্থাৎ, সাধারণ মুমিনদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ও মোহরানার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, যা নবী (সা.)-এর জন্য এই বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিল ছিল।
হাদীস শরীফে এই নিবেদনের একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। জনৈক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার কাছে নিবেদন করতে এসেছি।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকালেন, অতঃপর মাথা নিচু করে নিলেন। নারীটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তখন উপস্থিত জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার যদি তাকে প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিন।’ [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
উল্লেখ্য যে, নারীর পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়াকে সালাফগণ অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতেন। ইমাম আহমাদ (রহ.) সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন: আমি আনাস (রা.)-এর কাছে বসা ছিলাম,
