মধ্যে গড়ে ওঠে যাদের মাঝে কোনো হৃদ্যতা নেই? যে বিয়েতে প্রশান্তি ও করুণা থাকার কথা ছিল, অভিভাবকের জেদ বা বাধার কারণে তা ঘৃণা ও যন্ত্রণায় রূপ নিতে পারে। উপযুক্ত পাত্রের সাথে বিয়েতে বাধা দেওয়া নারীর মনে এমন এক মানসিক জটিলতা (Complex) তৈরি করে যা সারা জীবন তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই অভিভাবকদের উচিত বিয়ের পথ সহজ করা এবং নারীর পছন্দ ও ন্যায্য অধিকারের মূল্যায়ন করা।
সৎ ও যোগ্য পাত্রের কাছে কন্যা সোপর্দ করা
পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই, একজন আদর্শ পিতা কীভাবে তাঁর কন্যার জন্য যোগ্য ও আমানতদার পাত্র নির্বাচন করেন। মাদইয়ান প্রান্তরে মূসা (আ.)-এর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও পরোপকারী মনোভাব দেখে শু‘আইব (আ.) অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
“যখন সে (মূসা) মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌঁছাল, দেখল একদল লোক তাদের গবাদিপশুকে পানি পান করাচ্ছে। আর তাদের অদূরেই দুজন নারী তাদের পশুপালকে আগলে দাঁড়িয়ে আছে। মূসা জিজ্ঞেস করল— ‘তোমাদের সমস্যা কী?’ তারা বলল— ‘রাখালরা তাদের পশুদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা পানি পান করাতে পারি না; আর আমাদের পিতা অতিশয় বৃদ্ধ।’ তখন মূসা তাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়ে দিল। অতঃপর সে ছায়ায় গিয়ে আশ্রয় নিল এবং প্রার্থনা করল— ‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।’ কিছুক্ষণ পর সেই নারীদ্বয়ের একজন লাজুক পায়ে তার কাছে এল এবং বলল— ‘আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যেন আপনি আমাদের পশুদের পানি পান করানোর বিনিময় আপনাকে দিতে পারেন।’ মূসা যখন তার কাছে এসে নিজের কাহিনী বর্ণনা করল, তখন বৃদ্ধ বললেন— ‘ভয় পেয়ো না, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছ।’ তখন নারীদ্বয়ের একজন বলল— ‘হে আব্বা! আপনি একে মজুর হিসেবে নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী ও আমানতদার।’ বৃদ্ধ বললেন— ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করে দেবে। আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ করো, তবে সেটা তোমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ, তুমি আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবে।’ মূসা বলল— ‘আপনার ও আমার মধ্যে এটাই চুক্তি
