তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বাবা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দেখলেন মেয়ের শরীরে স্বামীর মারধরের চিহ্ন। বাবা জিজ্ঞেস করলেন—“কেমন আছো মা? তবে তোমার গায়ের এই জখম কিসের চিহ্ন?” মেয়েটি তখন কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং আক্ষেপ করে বলল— “আব্বা! আমি আপনাকে কী বলব? আমি আপনার অবাধ্য হয়েছি এবং সুন্দর আচরণ ও চরিত্রের গুরুত্ব না বুঝে কেবল রূপ দেখে তাকে বেছে নিয়েছিলাম; আজ তার ফল ভোগ করছি।”

নারীকে বিয়েতে বাধা প্রদান (আদল)
ইসলামে উপযুক্ত পাত্র পাওয়া সত্ত্বেও কোনো নারীকে বিয়ে করতে বাধা দেওয়াকে ‘আদল’ (العضل) বলা হয়, যা একটি জঘন্যতম অপরাধ ও হারাম কাজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন:
“তোমরা তাদেরকে (নারীদের) তাদের স্বামীদের সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দিও না, যদি তারা ন্যায়সংগতভাবে একে অপরের প্রতি সম্মত হয়। এর মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে তাদের উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। এটিই তোমাদের জন্য অধিকতর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২৩২]
এই আয়াতটি নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সাহাবী মা‘ক্বিল বিন ইয়াসার (রা.) বর্ণনা করেন— আমার এক বোন ছিল, যার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসত। আমার এক চাচাতো ভাই প্রস্তাব দিলে আমি তার কাছে বোনকে বিয়ে দিই। পরে সে তাকে তালাক দেয় এবং ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত ফিরিয়ে নেয়নি। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে পুনরায় আমার বোনের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এল। তখন আমি রাগের মাথায় বললাম— ‘আল্লাহর কসম! কক্ষনো আমি তার কাছে তোমাকে বিয়ে দেব না।’ মা‘ক্বিল বলেন, “অতঃপর আমাদের উদ্দেশ্যেই এই আয়াত নাযিল হয়: ‘আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও…’।” [সহীহ বুখারী, সুনান আবূ দাউদ ও সুনানুত তিরমিযী]
ইসলামী শরীয়ত নারীর পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ইচ্ছা এবং রুচিকে যথাযথ সম্মান দিয়েছে। উপযুক্ত পাত্র পাওয়া সত্ত্বেও কেবল অভিভাবকের খেয়ালখুশির কারণে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া বা বাধা দেওয়া নারীর প্রতি চরম জুলুম। মানুষকে কামনার সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে যা কেবল বৈধ পন্থায় পূরণ হওয়া জরুরি। এই আবেগ অবদমিত করলে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা তার স্নায়ু ও বিচারবুদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সেই বৈবাহিক জীবনের মূল্যই বা কী—যা এমন দুই মানুষের

« <
/ 351
> »