তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

রইল। আমি এই দুই মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি না কেন, সে ব্যাপারে আমার ওপর কোনো জবরদস্তি থাকবে না। আমরা যা বলছি, তার ওপর আল্লাহ্ই সাক্ষী ও কর্মবিধায়ক’।” [সূরাহ আল-ক্বসাস: ২৩-২৮]
এভাবেই শু‘আইব (আ.)-এর মতো একজন মহান ব্যক্তি—যিনি আল্লাহর একজন নবী ছিলেন এবং কোনো সাধারণ বা দরিদ্র ব্যক্তি ছিলেন না—তিনি নিজে মূসা (আ.)-এর কাছে নিজ কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল অত্যন্ত সাদামাটা পরিবেশে; সেখানে কোনো সেকেলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথা ছিল না, ছিল না কোনো বিলাসিতা বা বিয়ের পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করার মতো অতিরিক্ত খরচের বোঝা। এই মহৎ পিতা সকল লৌকিকতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে মূসা (আ.)-এর মতো একজন দরিদ্র যুবকের কাছে কন্যাকে সোপর্দ করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি; কারণ তিনি জানতেন মূসা (আ.) আমানতদার, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, সাহসী এবং শক্তিশালী।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের বিয়েগুলোও হতো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে। বর্তমানে আমরা বিয়ের নামে যেসব প্রথা আঁকড়ে ধরে আছি, সেগুলো মূলত পরিবার ধ্বংস করা, যুবকদের বিয়ের পথ রুদ্ধ করা এবং বংশধারাকে বাধাগ্রস্ত করার এক পৈশাচিক ও জাহেলী রীতি। আমাদের উচিত এই অর্থহীন প্রথা থেকে জাগ্রত হওয়া। আমার নিজের জীবনের একটি অভিজ্ঞতা এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি। যখন আমি আমার মেয়ের বিয়ে একজন সৎ পাত্রের সাথে ঠিক করি, তখন মোহরানার খুব সামান্য অংশ নগদে নিয়ে বাকিটা কেবল কাগজে লিখে রাখতেই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। আর আমার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—বরের পক্ষ থেকে আমার মেয়েকে কোনো অলঙ্কার বা দামি উপহার দেওয়া চলবে না!
নারীর পক্ষ থেকে বা অভিভাবকের পক্ষ থেকে পুরুষের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে আমি প্রায় বিশ বছর আগে আমার ‘আস-সাবীলু ইলা উসরাতিন আফদাল’ গ্রন্থে লিখেছিলাম: “আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি, যেদিন একজন বাবা তাঁর মেয়েকে নিজের পছন্দের পাত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন এবং মেয়েটি একজন যুবকের মতোই বলতে পারবে— ‘আব্বা! অমুক যুবককে আমার পছন্দ, আপনি গিয়ে আমার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসুন।’ এরপর বাবা গিয়ে সেই ছেলের সাথে কথা বলবেন।” ইসলাম এই অধিকার স্বীকার করে এবং এর প্রতি উৎসাহিত করে।
যোগ্য পাত্রের কাছে কন্যা সোপর্দ করার বিষয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে একটি চমৎকার কাহিনী আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আবদুল্লাহ ইবনে আবী

« <
/ 351
> »