তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।” সাহাবীগণ আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কুমারী মেয়ের অনুমতি কেমন করে বোঝা যাবে?’ তিনি বললেন, “তার চুপ থাকাই হলো তার অনুমতি।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
নারীর অসম্মতিতে অভিভাবকের চাপিয়ে দেওয়া বিয়ে ইসলামে কোনো স্বীকৃতি পায় না। খানসা বিনতে খিদাম (রা.) থেকে বর্ণিত— তাঁর পিতা তাঁর অনুমতি ছাড়াই তাঁকে বিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন ‘থাইয়িবাহ’ (পূর্বে বিবাহিতা)। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ নিয়ে এলে আল্লাহর রাসূল (সা.) এই বিয়ে বাতিল করে দেন। [সহীহ বুখারী ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থ]
অনুরূপভাবে আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন— জনৈক যুবতী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে নিবেদন করল, ‘আমার পিতা আমাকে তাঁর ভাতিজার সাথে বিয়ে দিয়েছেন যেন এর মাধ্যমে তিনি তাঁর হীন বংশমর্যাদা উন্নত করতে পারেন।’ তখন রাসূল (সা.) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলেন এবং পুরো বিষয়টি ওই মেয়ের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিলেন। অর্থাৎ মেয়েটি চাইলে বিয়েটি রাখতে পারত অথবা ভেঙে দিতে পারত। তখন মেয়েটি এক ঐতিহাসিক মন্তব্য করল:
“আমার পিতা যা করেছেন আমি তা মেনে নিলাম; কিন্তু আমি (এই প্রতিবাদের মাধ্যমে) নারীদের জানাতে চেয়েছিলাম যে, বিয়ের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাবার একক কোনো ক্ষমতা নেই!” [সুনান ইবনে মাজাহ; বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য]
দুর্ভাগ্যবশত, অনেক বাবা-মা বিয়ের আগে মেয়ের সম্মতির এই নববী নির্দেশ উপেক্ষা করেন; যার ফলাফল হয় অত্যন্ত তিক্ত এবং বিধ্বংসী। এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আমাদের চারপাশে বিদ্যমান। এ প্রসঙ্গে ‘হিন্দ’-এর একটি চমকপ্রদ ও শিক্ষণীয় কাহিনী উল্লেখ করা যায়, যখন খলীফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের কুখ্যাত গভর্নর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাক্বাফীর সাথে তাঁর অমতে বিয়ে হয়েছিল। একদিন হিন্দ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সৌন্দর্যের প্রশংসা করছিলেন এবং হাজ্জাজের প্রতি নিজের বিরক্তি প্রকাশ করে আবৃত্তি করছিলেন—
“হিন্দ তো আসলে এক আরব মাদী ঘোড়া, শ্রেষ্ঠ ঘোড়াদের বংশধর সে;
অথচ হায়! এক গাধার আজ ভাগ্য খুলেছে তাকে নিজের করে পাওয়ার।
সে যদি কোনো তেজী ঘোড়া প্রসব করে, তবে তা তার আভিজাত্যের গুণ,
আর যদি গাধা প্রসব করে, তবে তো গাধার ঔরসেই গাধার জন্ম!”
হাজ্জাজ তখন পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব শুনছিলেন। হিন্দের কথাগুলো তীরের মতো তাঁর কানে বিঁধল। তিনি রাগে ফেটে পড়ে বললেন—
