বর্ণনা করেছেন। এক আন্দালুসিয়ান ব্যক্তি চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় দাসীকে শহরের এক লোকের কাছে বিক্রি করে দিল। বিক্রির সময় সে ভাবতেও পারেনি যে তার মন সেই দাসীর জন্য এভাবে হাহাকার করে উঠবে। দাসীটি নতুন মালিকের ঘরে যাওয়ার পর লোকটির প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হলো। সে ক্রেতার কাছে গিয়ে তার বিনিময়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিল, কিন্তু ক্রেতা রাজি হলো না। সে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা ধরল, কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না। অবশেষে নিরুপায় হয়ে সে রাজার কাছে নালিশ জানাল। রাজার সামনে দাঁড়িয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং করুণা ভিক্ষা চাইল। রাজা দয়াপরবশ হয়ে ক্রেতাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: “এই লোকটি বিদেশী এবং তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি নিজেই তোমার কাছে ওর হয়ে সুপারিশ করছি (দাসীটি ওকে ফেরত দাও)।”
কিন্তু ক্রেতা নাছোড়বান্দা, সে বলল, “রাজামশাই! ওর চেয়েও আমি ওকে বেশি ভালোবাসি।” রাজা তখন নিরাশ হয়ে আন্দালুসিয়ান লোকটিকে অসম্মতি জানালেন। এ কথা শুনে লোকটি মুহূর্তের মধ্যে প্রাসাদের বারান্দার ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দিল। রাজা আঁতকে উঠে চিৎকার করলেন। প্রহরীরা দ্রুত ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে রাজার সামনে নিয়ে এল। দেখা গেল সে আবারও ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তখন রাজা ক্রেতার দিকে ফিরে বললেন, “এই লোকটির ভালোবাসার প্রমাণ তুমি স্বচক্ষে দেখলে—সে মরতে বসেছে। এবার তুমি তোমার ভালোবাসার প্রমাণ দাও; এই বারান্দা থেকে নিচে ঝাঁপ দাও। যদি মরে যাও তবে তো সব শেষ, আর যদি বেঁচে ফিরো তবে তুমিই এই দাসীর যোগ্য দাবিদার।” ক্রেতা ভয় পেয়ে গেল এবং হার মেনে দাসীটিকে ফেরত দিতে রাজি হলো। অতঃপর রাজা নিজেই দাসীটিকে কিনে নিয়ে সেই প্রেমিক বিক্রেতার হাতে তুলে দিলেন। [রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃষ্ঠা: ৩৭০-৩৮২; সংক্ষেপিত ও সম্পাদিত]
বিয়ের আগে কনের সম্মতির আবশ্যকতা
একটি সুখী ও স্থায়ী দাম্পত্য জীবনের মূলভিত্তি হলো পারস্পরিক পছন্দ ও আন্তরিক সম্মতি। ইসলামী শরীয়াহ নারীর এই অধিকারকে অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বিয়ের আগে কনের মতামত ও সম্মতি নেওয়া শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশ। হাদীস শরীফে এসেছে:
নবী (সা.) বলেছেন: “কোনো বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না, এবং কোনো কুমারী নারীকেও
