তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

যে ক্ষণস্থায়ী তৃপ্তি পাচ্ছে, ভবিষ্যতে তার ফলে এমন সব ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হতে পারে যা নিরাময় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। উপদেশের চেয়েও বড় বিষয় হলো—তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও আলোচনার মাধ্যমে এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। এছাড়া তরুণের অলস বা অবসর সময়কে এমন কোনো গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে যেন সে এই কু-চিন্তার সুযোগ না পায়। তাকে তার জীবনযাত্রার ধরন এবং প্রাত্যহিক রুটিনে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

এর পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন। অনেক সময় শারীরিক কিছু অস্বস্তিও ব্যক্তিকে বারবার এই অভ্যাসের দিকে ঠেলে দেয়। যেমন—মূত্রনালির প্রদাহ, দীর্ঘমেয়াদী প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যা, সেমিনাল ভেসিকল বা শুক্রাশয়ের প্রদাহ, পরিপাকতন্ত্রে সুতা কৃমির সংক্রমণ কিংবা যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথের চারপাশে চুলকানি সৃষ্টিকারী কোনো চর্মরোগ। এসব শারীরিক সমস্যা মূত্রনালির শ্লেষ্মাঝিল্লিতে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা পরোক্ষভাবে হস্তমৈথুনের প্রবল ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। তাই এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা করাও আসক্তি মুক্তির একটি বড় অংশ।

মানসিক অস্থিরতা ও স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিছু ‘সিডেটিভ’ বা শান্তিকারক ওষুধ এবং স্নায়ুর শক্তিবর্ধক হিসেবে ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স সেবন করা যেতে পারে; যা এই অভ্যাসের ফলে সৃষ্ট শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হয়।
স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
স্বপ্নদোষ হলো একটি অনিচ্ছাকৃত যৌন প্রক্রিয়া, যা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে একজন স্বাভাবিক মানুষের জীবনে ঘটে থাকে। এটি মূলত শরীরের একটি শারীরবৃত্তীয় (Physiological) প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জমে থাকা অতিরিক্ত যৌন শক্তি বা চার্জ নির্গত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘুমের ঘোরে পূর্ণ উত্তেজনার সাথে ব্যক্তি এটি অনুভব করতে পারে এবং এক প্রকার তৃপ্তিবোধ করে। আবার কখনও কখনও ব্যক্তি কিছুই মনে করতে পারে না; কেবল ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর সে বুঝতে পারে যে নিদ্রাবস্থায় তার শরীর থেকে বীর্যপাত হয়েছে, কিন্তু কার সাথে বা কীভাবে তা ঘটল—তার কোনো স্মৃতি মনে থাকে না।

স্বপ্নদোষ অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়, যা ব্যক্তি ও সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। এটি রাতে বা দিনে যেকোনো সময় হতে পারে। কখনও হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই-তিনবার এমনটা হতে পারে, আবার এরপর টানা কয়েক মাস পর্যন্ত আর কোনো লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে।

« <
/ 351
> »