হয়। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৭,৩৪৩ জন। আধুনিক ওষুধ ব্যবহারের ফলে ১৯৫৪ সালে এই সংখ্যা কমে ১৭,৫৩৬ জনে নেমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার আবারও বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে ১৯৬২ সালে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫,৪৩৮ জন। এতে প্রমাণিত হয় যে, বাজারে নানাবিধ ওষুধ থাকা সত্ত্বেও এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গনোরিয়ার জীবাণু মূলত নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে উভয়েরই প্রজননতন্ত্রের শ্লেষ্মাঝিল্লি বা মিউকাস মেমব্রেনকে (Mucous membrane) আক্রমণ করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি মূত্রনালি, প্রোস্টেট গ্রন্থি ও এর চারপাশের ছোট গ্রন্থিগুলো, শুক্রবাহী নালি এবং এপিডিডিমিসে (Epididymis) পুঁজযুক্ত প্রদাহ সৃষ্টি করে। ঠিক একইভাবে নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ (Cervix), যোনির চারপাশের গ্রন্থি, ফ্যালোপিয়ান টিউব, তলপেট এবং ডিম্বাশয়ে সংক্রমণ ঘটায়। এমনকি নারী-পুরুষ উভয়েরই চোখ ও হাড়ের জোড়া বা জয়েন্ট এই রোগের শিকার হতে পারে। এটি মূলত তরুণদের রোগ; ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গনোরিয়ার জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে কখনও কখনও এক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। এই রোগের উপসর্গ হঠাত করেই শুরু হয়; প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও কষ্ট অনুভূত হয়, এরপর মূত্রনালি দিয়ে ঘন হলুদ রঙের পুঁজ বের হতে থাকে, যা সারাদিন ধরেই নির্গত হয়।
গনোরিয়া শনাক্ত করা যেমন সহজ, এর চিকিৎসাও তেমন দ্রুত করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে—যৌনাঙ্গ দিয়ে যেকোনো ধরনের নিঃসরণ বা পুঁজ নির্গত হওয়া মানেই তা গনোরিয়া নয়। এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে; যেমন—নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী (যেমন ট্রাইকোমোনাস), ভাইরাস, মূত্রনালির পাথর, এমনকি কিছু সাধারণ রোগ যেমন ‘গাউট’ বা গেঁটেবাত। এছাড়া সাবান বা এ জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রদাহ থেকেও এমনটা হতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যৌনাঙ্গ থেকে নিঃসৃত রসের প্রায় ৬০ শতাংশ কারণ হলো এই সব বিবিধ অনুষঙ্গ, আর বাকি ৪০ শতাংশের কারণ হলো গনোরিয়ার জীবাণু। তাই সঠিক চিকিৎসার জন্য নিঃসরণের প্রকৃত কারণটি খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
রোগ হিসেবে গনোরিয়াকে হয়তো খুব বেশি ভয় পাওয়ার কারণ নেই, কিন্তু এর জটিলতাগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এর জটিলতাগুলো
