আরেকটি বিয়ে করেছেন। সেই মুহূর্ত থেকেই ওই স্ত্রী লক্ষ্য করলেন যে, তিনি আর স্বামীর সাথে মিলনে কোনো আনন্দ পাচ্ছেন না। এর কারণ হলো— না জানিয়ে বিয়ে করার কারণে স্বামীর প্রতি তাঁর মনে এক ধরনের ঘৃণা ও অবজ্ঞার সৃষ্টি হয়েছিল, যা তাঁর কামনাবাসনাকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছে।
দাম্পত্য জীবনে যৌন সম্পর্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। এতে শুধু শারীরিক দিকই নয়, মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিকও জড়িত। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উচিত একে অপরের চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা। তাড়াহুড়ো করে কাউকে ‘যৌন শীতল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া বা কেবল নিজের চাহিদা পূরণের যন্ত্র হিসেবে সম্পর্কটিকে দেখা উচিত নয়। বরং ধৈর্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও গভীর ও মধুর করে তোলা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন দান করুন। আমীন।
প্রশ্নকারিণী: ডাক্তার সাহেব, আপনি বাগদানের সময় সম্পর্ক সামাজিক ও ধর্মীয় সীমার মধ্যে রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে তো অনেক সময় তরুণ-তরুণী একে অপরকে বোঝার নামে সীমা ছাড়িয়ে যান। এ ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
ডাক্তার: জয়নাব, এটাই তো মূল সমস্যা। বাগদানের সময়টাকে অনেকে ‘ট্রায়াল পিরিয়ড’ হিসেবে ভাবেন, যেখানে তারা শারীরিক সম্পর্ককেও পরীক্ষা করে দেখতে চান! অথচ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে—বিয়ের আগে কোনো প্রকার শারীরিক ঘনিষ্ঠতা জায়েজ নয়। তাই এই সময়ে সম্পর্ককে সীমিত রাখতে হবে মানসিক ও সামাজিক পর্যায়ে। যেমন—পারিবারিক পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা, ধর্মীয় আলোচনা করা। আর হ্যাঁ, এই সময়েও পুরো পর্দা মেনে চলা জরুরি। কারণ একবার সীমা লঙ্ঘন হয়ে গেলে, পরে সেই সম্পর্ক বিয়েতে না-ও গড়াতে পারে; অথচ শারীরিক সম্পর্কের কারণে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারে—যা তার জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
প্রশ্নকারিণী: আপনি আগে বলেছিলেন, পুরুষের যৌনক্ষমতা ধরে রাখতে হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এই বিষয়টি একটু বিশদে বলবেন?
ডাক্তার: নিশ্চয়ই। যেসব খাবারে বেশি মসলা, বিশেষ করে ঝাল, সেগুলো যৌন উত্তেজনা বাড়ায়। যেমন—গরম মসলা, আদা, রসুন, পিঁয়াজ ইত্যাদি। এছাড়া বেশি মাংস ও মাছ খাওয়াও যৌন উত্তেজনা বাড়াতে পারে। অবিবাহিত যুবকদের উচিত এসব খাবার পরিমিত খাওয়া এবং দুগ্ধজাত খাবার, ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খাওয়া।
