হয়, যা ছাড়া মানুষ থাকতে পারে না।
তবে অনেক দম্পতি যখন মিলনের জন্য সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নেন— যেমন ধরুন শুক্রবার রাত (ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিনে দাম্পত্য মিলন উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এতে বিশেষ সওয়াব ও প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে)— তখন এই পূর্বনির্ধারিত সময়টি মিলনের স্বকীয় স্বাদ নষ্ট করে দেয়। কারণ তখন এটি কেবল একটি যান্ত্রিক অভ্যাসে পরিণত হয়। অভ্যাসবশত করা কোনো কাজ থেকে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া কঠিন, কারণ সেখানে আকস্মিক উত্তেজনা বা রোমাঞ্চের উপাদানটি অনুপস্থিত থাকে।
প্রশ্নকারিণী: আপনি ঠিকই বলেছেন ডাক্তার সাহেব। আমার এক বান্ধবীর কথা মনে পড়ছে, সে তার স্বামীর সাথে নির্ধারিত দিন (বৃহস্পতিবার) ছাড়া অন্য কোনো দিন মিলিত হতে কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানায়। একবার এক মজার ঘটনা ঘটল—তার স্বামী বুধবার দিবাগত রাতে মিলনের জন্য পীড়াপীড়ি করলে সে সরাসরি মানা করে দিল। তখন রাত বারোটা বাজার পর স্বামী তাকে বলল, ‘দেখো, এখন তো বৃহস্পতিবারের প্রথম প্রহর শুরু হয়ে গেছে; সুতরাং আমাদের চুক্তিমতো আমার পাওনা সময় বুঝে নেওয়ার অধিকার এখন আমার আছে!’
ডাক্তার: জয়নাব, আপনার বান্ধবীর এই গল্প শুনে হাসবেন না। কারণ এই গল্পের ভেতরে আমি একটি ট্র্যাজেডি বা করুণ আর্তি দেখতে পাচ্ছি। এটি প্রমাণ করে যে, সে তার স্বামীর সাথে এই সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আনন্দ বা তৃপ্তি পায় না। সে কেবল একটি যান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে স্বামীর ‘হক’ আদায় করছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, কোনো প্রকার মানসিক সুখ বা অনুভূতি ছাড়াই সে এই সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে।
প্রশ্নকারিণী: এর বাইরে কি আরও কোনো উদ্দেশ্য আছে?
ডাক্তার: হ্যাঁ, অনিদ্রার চিকিৎসা। এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের স্ত্রীর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত সহজে ঘুম আসে না!
প্রশ্নকারিণী: স্বামীর সাথে মিলিত হওয়ার আগে স্ত্রীর কি বিশেষ কোনো মানসিক বা শারীরিক প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে?
ডাক্তার: অবশ্যই। স্ত্রীকে মানসিকভাবে প্রফুল্ল এবং শারীরিকভাবে ক্লান্তিহীন হতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় মূলনীতি হলো— স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মনে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদাবোধ থাকতে হবে। যদি স্বামী স্ত্রীর কাছে সম্মান হারায়, তবে স্ত্রী এই মিলন থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় তৃপ্তি চিরতরে হারিয়ে ফেলেন।
এ প্রসঙ্গে এক স্ত্রীর কথা মনে পড়ল, যিনি হঠাত জানতে পারলেন যে তার স্বামী তাকে না জানিয়ে গোপনে
