“সেটি আমার কাছে আছে।” নবীজি (সা.) বললেন, “তবে সেটিই তাঁকে দিয়ে দাও।” [নাসাঈ, আবু দাউদ ও হাকেম]
এই ছিল বিশ্বনবীর দুহিতার মোহরানা, যা পার্থিব কোনো মূল্যে পরিমাপ করা অসম্ভব। অথচ তাঁর পিতা একটি সাধারণ বর্মকেই মোহরানা হিসেবে নির্ধারণ করে দিলেন—যা কেবল একটি প্রতীক ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
আর এই মহান দম্পতির ঘরের আসবাবপত্র কেমন ছিল? আলী (রা.) বলেন— রাসুলুল্লাহ (সা.) ফাতিমা (রা.)-কে বিদায় দেওয়ার সময় যা দিয়েছিলেন তা হলো: একটি পশমী চাদর এবং ইযখির ঘাস (খড়) ভর্তি একটি বালিশ। জাবের (রা.) বলেন— “আমরা ফাতিমা (রা.)-এর বিয়েতে উপস্থিত ছিলাম। আমরা এর চেয়ে সুন্দর কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান আর দেখিনি। আমরা খেজুর ও কিসমিস খেয়েছিলাম এবং তাঁর বিছানাটি ছিল খেজুরের আঁশ দিয়ে ভর্তি আর বাসর রাতের বিছানাটি ছিল একটি ভেড়ার চামড়া মাত্র।”
এই হলো সেই আদর্শিক সরলতা ও সহজ জীবন। আমরা কি আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের এই আদর্শ অনুসরণ করব না? যাতে আমাদের পরিবারগুলোতে শান্তি ফেরে এবং একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি!
আমাদের শেষ আহ্বান
এই গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ে আমরা ইসলামী দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য, সন্তান লালন-পালন, পিতা-মাতার মর্যাদা, পর্দা ও শালীনতার গুরুত্ব, অবাধ মেলামেশার কুফল, পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার উপায়, দাম্পত্য কলহের সমাধান এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখের প্রতিশ্রুতি—সবকিছুই কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আমরা বিশ্বাস করি, যে পরিবার আল্লাহর বিধান মেনে চলে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে, সে পরিবার দুনিয়াতেও জান্নাতের নমুনা এবং আখিরাতেও জান্নাত লাভ করবে। আমাদের শেষ আহ্বান—আসুন, আমরা সবাই নিজেদের সংশোধন করি, আমাদের পরিবারগুলোকে সুন্দর করি এবং একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও আদর্শবান জাতি গঠনে সচেষ্ট হই।
হে আমাদের রব! আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের জন্য চক্ষুশীতলকারী করুন। আমাদের সন্তানদের নেককার ও আদর্শবান করুন। আমাদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমাদের চোখ, কান ও জিহ্বাকে সংযত রাখার শক্তি দিন। আমাদের অন্তর ও লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখুন। আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি দান করুন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
ফাতেমা-আলীর বিয়ের ওলিমা: সাহাবীদের অনন্য সহযোগিতা ও
