ও স্বাস্থ্য—উভয়কেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিই আমাদের বাধ্য করেছে একটি ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক পরিবেশে আমানতদারি ও সততার সাথে এই ‘যৌন শিক্ষা’ তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। যেন তারা বিপথগামী না হয়ে বিবাহের প্রতি উৎসাহিত হয় এবং বিবাহকে কেবল নিছক আনন্দ নয়, বরং একটি পবিত্র ও মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে।
আমরা কি ফিরে আসতে চাই সেই সরলতার আদর্শে?
আমাদের অনেক পাঠক হয়তো মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও সীরাতে বর্ণিত মোহরানা, বিবাহ ও ওলিমার সরলতা দেখে অবাক হয়েছেন। বিস্ময় জেগেছে ইসলামের সেই দূরদর্শী বিধান দেখে—যেখানে বেপর্দা চলাফেরা, অবাধ মেলামেশা এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ খোদ পশ্চিমা বিশ্বই এই অবাধ স্বাধীনতার কারণে ধ্বংস ও নৈতিক অবক্ষয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, যার ভবিষ্যৎবাণী তাদের বিজ্ঞানীরাই করছেন। এমনকি তারা এখন প্রাচ্যের ইসলামি মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করতে শুরু করেছে। আমাদের এই বিস্ময়ের কারণ হলো— বিদেশিদের সাথে মেলামেশা ও তাদের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে আমরা আমাদের সহজাত স্বভাব (ফিতরাত) হারিয়ে ফেলেছি এবং মুসলিম পরিবারগুলোতে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
আমরা আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যের সেই সারল্য হারিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে বিয়ে মানেই যেন বিশাল অর্থের পাহাড় এবং এক জটিল সমস্যার নাম। জাহেলী প্রথা ও লোকদেখানো আড়ম্বর আমাদের বিয়েকে একটি মরণপণ লড়াইয়ে পরিণত করেছে। একজন পুরুষকে তার বিয়ের খরচের বোঝা বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হয়—যেন সে কোনো কসাইখানা বা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সর্বস্ব হারিয়ে ফিরেছে! লৌকিকতা আর মানুষের বাহবা কুড়ানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের দ্বীন, রুচিবোধ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
অথচ এই গ্রন্থে আমরা দেখেছি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ওলিমা কেমন ছিল, তাঁর কন্যা ও স্ত্রীদের মোহরানা কেমন ছিল। সেই বরকতময় স্মৃতিগুলো আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা ও উপদেশের আধার।
ফাতিমা-আলীর বিবাহ: সরলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
আসুন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কলিজার টুকরো ফাতিমা (রা.) এবং আলী (রা.)-এর বিবাহের সেই ঐতিহাসিক ঘটনাটি আরেকবার স্মরণ করি:
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— আলী (রা.) যখন ফাতিমা (রা.)-কে বিয়ে করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তাঁকে কিছু (মোহরানা) দাও।” আলী (রা.) বললেন, “আমার কাছে তো দেওয়ার মতো কিছুই নেই।” নবীজি (সা.) বললেন, “তোমার সেই ‘হুতামি’ বর্মটি কোথায়?” তিনি বললেন,
