আমাদের জন্য শিক্ষা
ফাতেমা (রা.)-এর বিয়ের সেই ওলিমা অনুষ্ঠানে সাহাবায়ে কেরামও পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কেউ বললেন— ‘একটি দুম্বার দায়িত্ব আমার’, কেউ বললেন— ‘ভুট্টা বা যবের ব্যবস্থার দায়িত্ব আমার’। এভাবেই মোহরানা, আসবাবপত্র এবং বিয়ের আয়োজন অত্যন্ত সহজ ও অনাড়ম্বরভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আমরা যদি প্রকৃত মুসলিম হতে চাই এবং আমাদের পরিবারগুলোকে নৈতিকতা, মিতব্যয়িতা, সারল্য ও শক্তির মজবুত ভিত্তির ওপর গড়তে চাই, তবে তাঁদের জীবনকেই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ইসলামি জীবনধারায় যে সৌন্দর্য এবং বিলাসিতা ও বাহুল্য বর্জনের শিক্ষা রয়েছে, তা আমাদের সেই অতি-বিলাসিতা থেকে দূরে রাখে—যা থেকে সতর্ক করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “বিলাসিতা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসপ্রিয় হয় না।” [আল-বাযযার; উত্তম সনদে]
বিলাসী জাতি সাধারণত যুদ্ধবিগ্রহ ও জীবনের কঠিন সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে দুর্বল হয়ে থাকে। তাই আমরা যদি প্রকৃত সুখ এবং হারানো গৌরব ফিরে পেতে চাই, তবে আমাদের উচিত ইসলামের সেই শাশ্বত সারল্য ও নির্দেশনার দিকে ফিরে আসা।
বর্তমান বিয়ের রীতি ও ইসলামের শিক্ষার বৈপরীত্য
আমাদের বর্তমান যুগের আধুনিক বিয়ের রীতিগুলোর সাথে সেই মহান যুগের কী বিস্তর ফারাক! আজ বিয়ে মানেই ভয়াবহ অপচয় আর লৌকিকতা। কনের জন্য দামি চুড়ি, আংটি আর কণ্ঠহারের প্রতিযোগিতা চলে। আমি আমার নিজের দুই জামাতার সাথে পূর্বেই শর্ত দিয়েছিলাম—প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এসবের কিছুই দেওয়া যাবে না। আমার এই শর্তে তারা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন রীতিমতো অবাক হয়েছিল।
বিয়ের সময় বর-কনেকে যেসব দামি ফুলের তোড়া দেওয়া হয়, যা দুদিন পরই ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হয়; কিংবা রূপা, কাঠ বা দামী ক্রিস্টালের পাত্রে করে যেভাবে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ঘরে অকেজো পড়ে থাকে—এসবই অর্থহীন। এসবের পরিবর্তে যদি ইসলামি বই উপহার দেওয়ার প্রচলন করা যেত, তবে তা দীর্ঘকাল একটি কল্যাণকর স্মৃতি হয়ে থাকত। আর যদি শিশুদের আনন্দের জন্য মিষ্টি বিতরণ করতেই হয়, তবে তা সাধারণ কাগজে প্যাকেট করেই করা উচিত; তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সেই প্যাকেটে কোনো মানুষের ছবি বা ক্রুশচিহ্ন না থাকে।
বিয়ের খরচ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা একটি জাতির অস্তিত্ব ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে
