তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

মেয়ের বিয়ে দিলেন। অথচ এর আগে মেয়েটির আপন চাচাতো ভাই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। নবী (সা.)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, বাবা যেখানে বিয়ে দিয়েছেন মেয়েটি সেখানে অপছন্দ করছে; বরং সে তার চাচাতো ভাইকেই পছন্দ করে। তখন নবী (সা.) বাবার দেওয়া সেই বিয়ে বাতিল করে দিলেন এবং মেয়েটির পছন্দ অনুযায়ী তার চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিলেন। [সহীহ বুখারী, সুনানুন নাসাঈ ও সুনান ইবনে মাজাহ]
খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে সুপারিশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
সাহাবায়ে কেরামও এই মানবিক ও দরদী আচরণের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। খিলাফতকালে আবূ বকর সিদ্দীক (রা.) একবার মদিনার কোনো এক পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক দাসী যাতা দিয়ে শস্য পিষছে আর গুনগুন করে গাইছে:
“কিশোরীবেলার সেই দিনগুলো থেকেই তাকে ভালোবেসেছি,
বাতাসের দোলায় নুয়ে পড়া নরম ডালটির মতো চঞ্চল সে প্রিয়তম।
তার চেহারায় যেন পূর্ণিমার চাঁদের জ্যোতি ঝরে পড়ে,
হাশেমী বংশের সেই সুউচ্চ চূড়ায় তার বসতি।”
আবূ বকর (রা.) দরজায় কড়া নাড়লেন। মেয়েটি বেরিয়ে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “হায় কপাল! তুমি কি স্বাধীন নাকি দাসী?” সে বলল, “হে রাসূলের খলীফা! আমি একজন দাসী।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কার বিরহে এমন গাইছিলে?” মেয়েটি কেঁদে ফেলে বলল, “আল্লাহর দোহাই! আপনি চলে যান (আমায় লজ্জিত করবেন না)।” তিনি বললেন, “তুমি না বলা পর্যন্ত আমি এক চুলও নড়ব না।” তখন মেয়েটি আবৃত্তি করল:
“আমি সেই নারী যার হৃদয়ে অনুরাগের খেলা চলে,
মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমের বিরহে যার চোখ দিয়ে অশ্রু গলে।”
আবূ বকর (রা.) সোজা মসজিদে চলে গেলেন এবং মেয়েটির মালিককে ডেকে পাঠিয়ে তার কাছ থেকে মেয়েটিকে কিনে নিলেন। এরপর তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম ইবনে আবী তালিবকে ডেকে এনে মেয়েটিকে তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললেন, “নারীদের ভালোবাসায় কত বীর পুরুষ যে প্রাণ হারিয়েছে আর কত সুস্থ মানুষ যে বরবাদ হয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই!”
অনুরূপভাবে উসমান বিন আফফান (রা.)-এর কাছে এক দাসী আনসারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এল। উসমান (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার সমস্যা কী?” সে বলল, “আমীরুল মুমিনীন! আমি ওই ব্যক্তির ভাতিজার প্রেমে মজেছি, সারাক্ষণ কেবল তার ভাবনাই আমায় আচ্ছন্ন করে রাখে।” উসমান (রা.) লোকটিকে ডেকে বললেন, “হয় তুমি এই দাসীটিকে তোমার ভাতিজার কাছে দান

« <
/ 351
> »