অনিয়ন্ত্রিত আসক্তিতে (ইশক) রূপ নেয়—যা মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর ‘যাম্মুলহাওয়া’ (প্রবৃত্তির নিন্দা) গ্রন্থে সতর্ক করেছেন যে—বারবার অপলক দৃষ্টিতে তাকানো, অবাধ মেলামেশা, নির্জনে একত্র হওয়া এবং কামোদ্দীপক কবিতা বা গান শোনার মাধ্যমে এই আসক্তি ঘনীভূত হয়।
অন্ধ আসক্তি মানুষের বিবেক ও দ্বীনদারি উভয়কেই নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন স্ত্রীর প্রতি অতিরিক্ত মোহের কারণে একজন পুরুষ তার বৃদ্ধ বাবা-মা, এমনকি আগের ঘরের সন্তানদের প্রতিও অবিচার করে বসে। স্ত্রীর মন জোগাতে গিয়ে সে সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং সম্পদ নষ্ট করে—যার ফলে পুরো পরিবারে চরম অশান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসে। একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত এই ধ্বংসাত্মক আসক্তির সকল পথ শুরুতেই বন্ধ করে দেওয়া।
প্রেমাস্পদদের প্রতি মমতা ও তাদের জন্য সুপারিশ
ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় পারস্পরিক কল্যাণকামিতা ও নেক কাজে সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে যখন কেউ কোনো সৎ উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে সুপারিশ বা মধ্যস্থতা কামনা করে, তখন সাধ্যানুযায়ী তাকে সাহায্য করা মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা সুপারিশের পরিণাম সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন:
“কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করলে তার মধ্যে তার অংশ থাকবে এবং কেউ মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তার মধ্যেও তার অংশ থাকবে।” [সূরাহ আন-নিসা: ৮৫]
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের পারস্পরিক সহযোগিতার মূলনীতি বর্ণনা করে বলেন:
“সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।” [সূরাহ আল-মায়িদাহ: ২]
রাসূলে কারীম (সা.) নিজেও মানুষের প্রয়োজনে সুপারিশ করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:
“তোমরা (ভালো কাজের) সুপারিশ করো, সওয়াব পাবে। আর আল্লাহ তাঁর রাসূলের মুখে তা-ই ফয়সালা করেন যা তিনি পছন্দ করেন।” [সহীহ বুখারী, সুনান আবূ দাউদ, সুনানুত তিরমিযী ও সুনানুন নাসাঈ]
সুপারিশের এই মহান শিক্ষার প্রতিফলন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও দেখতে পাই। এ প্রসঙ্গে গত আলোচনায় উল্লিখিত ‘বারীরাহ (রা.)-এর ঘটনাটি’ স্মরণ করা যেতে পারে, যেখানে মুগিস (রা.)-এর ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহর রাসূল (সা.) স্বয়ং সুপারিশকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছিলেন। কেবল বিচ্ছেদ রোধেই নয়, বরং পছন্দের মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রেও নবী (সা.)-এর প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতার নজির রয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এক ব্যক্তি তার
