গ্রন্থে এর প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে যে—মুগিস তখনও দাস ছিলেন, আর একজন স্বাধীন নারী দাসের ঘর করবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর ইচ্ছাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া শরীয়তের দাবি। বারীরাহ (রা.) বিচ্ছেদ বেছে নিলেন এবং মুগিস (রা.)-এর জন্য পরনারী হয়ে গেলেন।
মুগিস (রা.) এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি মদিনার অলিগলিতে বারীরাহর পেছনে পেছনে কাঁদতে কাঁদতে ঘুরতেন। তা দেখে নবী (সা.) অবাক হয়ে ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বললেন, “বারীরাহর প্রতি মুগিসের ভালোবাসা আর মুগিসের প্রতি বারীরাহর ঘৃণা দেখে তুমি কি অবাক হচ্ছ না?!” অতঃপর তিনি বারীরাহকে অনুরোধ করলেন, “তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে!” বারীরাহ (রা.) এটি আদেশ কি না জানতে চাইলে রাসূল (সা.) বললেন, “না, আমি কেবল সুপারিশ করছি।” ইমাম ইবনুল ক্বায়্যিম (রহ.) বলেন—এটি ছিল সুপারিশকারীদের নেতা এবং স্বয়ং প্রেমিকের (রাসূল সা.) পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয়তমার কাছে করা এক মহান সুপারিশ! মুগিস (রা.) যখন বারীরাহর জন্য দেওয়ানা হয়ে ঘুরতেন, তখন রাসূল (সা.) তাঁকে এই ‘ইশক’ বা গভীর আসক্তি থেকে নিষেধ করেননি; কারণ এটি এমন এক অনুভূতি যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অনুরূপ এক ঘটনায় এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, তাঁর স্ত্রী পরপুরুষের হাত ফিরিয়ে দেয় না (অর্থাৎ মানুষের সাথে অত্যধিক মেলামেশা করে)। কিন্তু তিনি এও বললেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমার মন হয়তো তার পিছু ছাড়বে না (অর্থাৎ আমি তাকে খুব ভালোবাসি)।’ নবী (সা.) তাকে বললেন, “তবে তাকে তোমার কাছেই রেখে দাও।” [মুসনাদ আহমাদ]
ইমাম ইবনুল ক্বায়্যিম (রহ.) ‘রওজাতুল মুহিব্বীন’ গ্রন্থে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন—লোকটি যখন অভিযোগ করল যে সে স্ত্রীকে ছাড়া থাকতে পারছে না এবং বিচ্ছেদ দিলে ভালোবাসা তাকে গোনাহর দিকে ঠেলে দিতে পারে, তখন নবী (সা.) তাকে স্ত্রীর সাথে ঘর করার নির্দেশ দিলেন। এটি ছিল লোকটির হৃদয়ের রোগ নিরাময় এবং সম্ভাব্য বড় ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, স্ত্রী ব্যভিচারিণী ছিলেন না; বরং অভিযোগটি ছিল এমন যে—সে পরপুরুষের সাথে কথা বলা বা হাসি-তামাশা করার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল না। আরবদের মধ্যে অনেক নারী এমন ছিলেন যারা স্বভাবগতভাবে চঞ্চল ও মিশুক হতেন, কিন্তু সতীত্বের প্রশ্নে ছিলেন অটল।
ভালোবাসার এই আলোচনার প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে, অনেক সময় এই আবেগ
