তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

এই সহজাত সীমাবদ্ধতা ও আবেগের তীব্রতা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে:
“হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২৮৬]
“মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে।” [সূরাহ আন-নিসা: ২৮]
আবেগের এই প্রবলতা অনেক সময় মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে। যেমনটি ইউসুফ (আ.)-এর সমসাময়িক মিশরের নারীদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। ইরশাদ হয়েছে:
“অতঃপর মহিলারা যখন তাকে (ইউসুফকে) দেখল, তখন তারা তার সৌন্দর্যে অভিভূত হলো এবং (ফল কাটার পরিবর্তে আবেগবশত) নিজেদের হাত কেটে ফেলল। তারা বলল— ‘অসম্ভব! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্বিত ফিরিশতা!’” [সূরাহ ইউসুফ: ৩১]
হৃদয়ের এই বিশেষ টান বা অগ্রাধিকার স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও বিদ্যমান ছিল। আমর ইবনুল আস (রা.) একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় কে?’ তিনি দ্বিধাহীনভাবে উত্তর দিলেন, ‘আয়েশা।’ যখন পুরুষদের মধ্য থেকে জানতে চাওয়া হলো, তখন তিনি বললেন, ‘তার বাবা (আবূ বকর)।’ [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বিশেষ ভালোবাসা তাঁর অন্যান্য সহধর্মিণীগণের মাঝেও অনুভূত হতো। একবার তাঁরা ফাতেমা (রা.)-কে সুপারিশের জন্য পাঠালে রাসূলুল্লাহ (সা.) ফাতেমা (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, “হে আমার আদরের কন্যা! আমি যাকে ভালোবাসি, তুমি কি তাকে ভালোবাসো না?!” ফাতেমা (রা.) সম্মতি জানালে তিনি বললেন, “তবে একেও (আয়েশাকে) ভালোবাসো।” [সহীহ মুসলিম ও সুনানুত তিরমিযী]
তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মাঝে দিন বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা বজায় রাখতেন। ইমাম ইবনুল ক্বায়্যিম (রহ.) ‘রওজাতুল মুহিব্বীন’ গ্রন্থে বলেন— রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের ভরণপোষণ এবং সান্নিধ্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ ইনসাফ করার চেষ্টা করতেন, কিন্তু হৃদয়ের ভালোবাসার ক্ষেত্রে সমতা আনা তাঁর সাধ্যের বাইরে ছিল; এটি কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। এ কারণেই রাসূল (সা.) দু‘আ করতেন:
“হে আল্লাহ! যেটুকু আমার আয়ত্তে আছে (দিন বণ্টন), সে ক্ষেত্রে এটিই আমার ইনসাফ। তবে যেটুকু আমার আয়ত্তে নেই (অর্থাৎ হৃদয়ের টান বা ভালোবাসা), সে জন্য আমাকে তিরস্কার করবেন না।” [সুনানুত তিরমিযী ও সুনানুন নাসাঈ]
ভালোবাসার এই ব্যাকুলতার এক করুণ দৃষ্টান্ত বারীরাহ (রা.) ও তাঁর স্বামী মুগিস (রা.)-এর ঘটনা। বারীরাহ (রা.) যখন দাসত্ব থেকে মুক্ত হলেন, তখন ইসলাম তাঁকে বিচ্ছেদ বা বিয়ে বহাল রাখার ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা দেয়। ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’

« <
/ 351
> »