করে দাও, নয়তো আমি আমার নিজের সম্পদ থেকে তোমাকে এর মূল্য পরিশোধ করছি।” লোকটি বলল, “আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাকে ভাতিজার জন্যই দান করে দিলাম।”
আলী বিন আবী তালিব (রা.)-এর যুগেও এমন এক ঘটনা ঘটেছিল। এক আরব যুবককে আলী (রা.)-এর কাছে হাজির করা হলো, যাকে রাতে অন্য এক গোত্রের বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল। আলী (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাহিনী কী?” যুবক বলল, “আমি চোর নই, আমি আপনার কাছে সত্য বলছি:
‘রাইয়াহীর ঘরে এক সুন্দরী ললনার প্রেমে আমি পড়েছি, আভিজাত্য আর সৌন্দর্যে সে যেন এক অনন্য মানবী। তার রূপের কাছে সূর্য-চাঁদও হার মানে, প্রাণের টানেই গভীর রাতে তার দুয়ারে হানা দিয়েছি। অথচ বাড়ির লোক আমায় চোর ভেবে ঘিরে ধরল, এখন মৃত্যু আর বন্দিত্বই যেন আমার ললাটে লেখা।’”
যুবকের কবিতা শুনে আলী (রা.)-এর মন গলে গেল। তিনি গোত্রপতি মুহাল্লাব বিন রাবাহকে বললেন, “মেয়েটিকে ওর হাতে তুলে দিন, আমি আপনাকে এর বিনিময় দিয়ে দেব।” মুহাল্লাব বললেন, “আমীরুল মুমিনীন! আগে জেনে নিই ওর বংশ পরিচয় কী?” যুবক বলল, “আমি নাত্তাস বিন উয়াইনাহ আল-ইজলী।” পরিচয় পেয়ে মুহাল্লাব সানন্দে বললেন, “নিয়ে যাও, সে তোমারই হলো।”
এমনকি মু‘আবিয়া বিন আবী সুফিয়ান (রা.)-এর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তিনি বাহরাইন থেকে এক দাসী ক্রয় করলেন এবং তার রূপে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন। একদিন তিনি শুনলেন মেয়েটি একটি কবিতা আবৃত্তি করছে: “বিচ্ছেদের কালে সে ছিল সজীব এক বৃক্ষশাখার মতো, যৌবনের লাবণ্যে ঘেরা সেই প্রিয়তমকে ছেড়ে আজ আমি একা।” মু‘আবিয়া (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, “কে সেই ব্যক্তি?” মেয়েটি বলল, “সে আমার চাচাতো ভাই।” মু‘আবিয়া (রা.) তাকে তার চাচাতো ভাইয়ের কাছেই ফেরত পাঠিয়ে দিলেন, যদিও মেয়েটির প্রতি তাঁর নিজের মনেও গভীর টান তৈরি হয়েছিল।
সুপারিশের নীতি ও সতর্কতা
তবে এই সুপারিশ বা মধ্যস্থতা কেবল তখনই হওয়া উচিত যখন উভয় পক্ষই সৎচরিত্রবান হয়। যদি কোনো পক্ষ পাপাচারী হয় তবে এমন সুপারিশ করা অনুচিত। বরং সৎ ব্যক্তিকে বিপথগামী কারো ভালোবাসা থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। তাকে বোঝাতে হবে যে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে আবেগের চেয়ে গভীর চিন্তাভাবনা ও বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ নিছক স্বপ্নবিলাস আর অন্ধ আবেগ দিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তার পরিণতি হয় বিচ্ছেদ অথবা
