তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

হতে হবে।

ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন— আয়াতের শেষে “নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত ও মহান” কথাটি স্বামীদের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন হুমকি। অর্থাৎ স্বামী যদি অকারণে স্ত্রীর ওপর চড়াও হয়, তবে যেন মনে রাখে যে আল্লাহর ক্ষমতা তার চেয়ে অনেক বেশি।

একজন স্বামীকে অবশ্যই নারীর স্বভাব ও আচরণ সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে। তাকে হতে হবে নারীর ভুলত্রুটির প্রতি ধৈর্যশীল; তবে তাদের খেয়ালখুশির অন্ধ অনুসারী হওয়া চলবে না। ভুল করার পর স্ত্রীকে ক্ষমা করা, তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা এবং তার প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকাই আদর্শ স্বামীর গুণ। স্ত্রী কোনো ভুল করলে এবং স্বামী তা ক্ষমা করে দিলে, পরবর্তীতে বারবার খোঁটা দিয়ে নিজের মহত্ত্ব জাহির করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, তালাক কোনো সমাধান নয়। যে ব্যক্তি কোনো চেষ্টা-তদবির বা ধৈর্য ছাড়াই হুটহাট তালাকের কথা ভাবে, সে মূলত নিজের অজান্তেই একটি সুন্দর সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। সে হয়তো ভাবে যে সে বেঁচে গেল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে যে কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব ছিল, সে তা থেকে বঞ্চিত হলো। অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে তালাক দাতা সমাজে অশান্তির বীজ বপন করে—যার ন্যূনতম কুফল হলো সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া। এর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

আধুনিক যুগে প্রহারের বিষয়টি নিয়ে অনেকে আপত্তি তুলতে পারেন। কিন্তু অস্বাভাবিক অবাধ্যতার ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রয়োজনে এর উপযোগিতা অস্বীকার করার উপায় নেই। এমনকি পশ্চিমা শিক্ষাবিদরাও এখন অবাধ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক দণ্ডের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। ইসলামের এই শাসন পদ্ধতির মাঝে এক অনন্য মাহাত্ম্য লুকিয়ে আছে। এখানে নারীর মনস্তত্ত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকের মেজাজ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শয্যা বর্জনের মাধ্যমে স্ত্রী যখন দেখে যে তার রূপের জাদু বা শারীরিক আকর্ষণ স্বামীর ব্যক্তিত্বের কাছে হার মানছে, তখন সে বাধ্য হয়ে তার ভুল বুঝতে পারে এবং নম্র হয়।

হাদীসের আলোকে নির্দেশনা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “সাবধান! তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো। তারা তোমাদের কাছে আমানত (আবদ্ধ) হিসেবে আছে। তারা যদি কোনো সুস্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয়, তবে তাদের সাথে দুর্ব্যবহারের কোনো অধিকার তোমাদের নেই। যদি তারা এমন কিছু করে, তবে

« <
/ 351
> »